সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী সেলিনা আজাদের শুভ জন্মদিন

আজ জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী সেলিনা আজাদের শুভ জন্মদিন

আজ জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী সেলিনা আজাদের শুভ জন্মদিন

বাংলাদেশের আধুনিক গান ও চলচ্চিত্রের গানে যাঁদের কণ্ঠ একসময় শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল, সেলিনা আজাদ তাঁদেরই একজন। মিষ্টি, সুরেলা ও আবেগঘন কণ্ঠে তিনি গেয়েছেন অসংখ্য গান। তবে তাঁর কণ্ঠের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে গানটি শ্রোতাদের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে, সেটি হলো—

 

“মনেরও রঙে রাঙাবো,
বনেরও ঘুম ভাঙাবো…” 
১৯৭৪ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘মাসুদ রানা’-তে সেলিনা আজাদের কণ্ঠে গাওয়া এই গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। আজও পুরোনো বাংলা চলচ্চিত্রের গানের আলোচনায় গানটি বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

 

শৈশবেই সংগীতের হাতেখড়ি-
ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। পিতা-মাতার অনুপ্রেরণায় শৈশবেই সংগীতে হাতেখড়ি। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তাঁর শিল্পীজীবনের সূচনা।

 

পরবর্তীতে তিনি তৎকালীন সময়ের বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ পি.সি. গোমেজ, ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ, সোহরাব হোসেন ও সুধীন দাশের কাছে সংগীতে তালিম গ্রহণ করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া শাস্ত্রীয় ও সংগীতের গভীর শিক্ষা তাঁর গায়কীকে আরও সমৃদ্ধ করে।

 

চলচ্চিত্রের গানে সেলিনা আজাদ-
সেলিনা আজাদের সংগীতজীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় চলচ্চিত্রের গান। বিশেষ করে প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক আজাদ রহমানের সুরে তাঁর গাওয়া গানগুলো শ্রোতাদের কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়।

 

১৯৭৪ সালের ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্রে তাঁর গাওয়া—
“মনেরও রঙে রাঙাবো, বনেরও ঘুম ভাঙাবো”
গানটি তাঁকে চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।
এ ছাড়া তিনি *‘দস্যু বনহুর’, ‘খোকন সোনা’, ‘মায়ার বাঁধন’ ও ‘দুঃখ নেই’*সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।


তাঁর কণ্ঠে আধুনিক গান ও চলচ্চিত্রের গান পেয়েছে এক কোমল, মায়াময় আবহ—যা সেই সময়ের শ্রোতাদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে।

 

বেতার ও টেলিভিশনের বিশেষ গ্রেডের শিল্পী-
দীর্ঘ সংগীতজীবনে সেলিনা আজাদ বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিশেষ গ্রেডের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে মর্যাদা অর্জন করেছেন।
বেতার ও টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সংগীত পরিবেশনা এবং চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে তাঁর রয়েছে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ পথচলা।

 

আজাদ রহমান ও সেলিনা আজাদ-
সেলিনা আজাদের জীবন ও সংগীতসাধনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার, সংগীত পরিচালক ও শিল্পী আজাদ রহমানের নাম। তাঁরা ছিলেন জীবনসঙ্গী এবং সংগীতেরও সহযাত্রী।

 

আজাদ রহমানের সুরে সেলিনা আজাদ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন। তাঁদের যৌথ সংগীতযাত্রা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানের ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
নতুন প্রজন্মের জন্য সংগীতশিক্ষা-
শুধু গান গেয়েই থেমে থাকেননি সেলিনা আজাদ। সংগীতচর্চা ও সংগীতশিক্ষার প্রসারেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন।
১৯৯০ সালে আজাদ রহমান প্রতিষ্ঠিত ‘সংস্কৃতি কেন্দ্র’-এর সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। সেখানে সংগীতশিক্ষক হিসেবে নতুন প্রজন্মকে গান শেখানোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন।

 

অর্থাৎ তাঁর সংগীতজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নিজে গান গাওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পী তৈরি করার দায়িত্ব পালন।

 

সংগীতময় পরিবার-
আজাদ রহমান ও সেলিনা আজাদ দম্পতির তিন কন্যা—রুমানা আজাদ, রোজানা আজাদ ও নাফিসা আজাদ। তাঁরাও সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত থেকে পিতামাতার সংগীতঐতিহ্যকে ধারণ করে চলেছেন।


একটি পরিবারের একাধিক প্রজন্ম যখন সংগীতের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন তা নিঃসন্দেহে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য আনন্দের ও গর্বের বিষয়।

 

জন্মদিনে শুভেচ্ছা
একসময় যে কণ্ঠে গাওয়া—
“মনেরও রঙে রাঙাবো,
বনেরও ঘুম ভাঙাবো…”
গানটি বাংলা চলচ্চিত্রের শ্রোতাদের মনে আনন্দের ঢেউ তুলেছিল, সেই কণ্ঠের শিল্পী সেলিনা আজাদ আজও সংগীতচর্চা ও সংগীতশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজের অবদান রেখে চলেছেন।
আজ ২০ আগস্ট তাঁর জন্মদিন।
জন্মদিনে বরেণ্য এই শিল্পীর প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁর সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সুন্দর জীবন কামনা করি।

 

বাংলাদেশের সংগীতের ইতিহাসে তাঁর কণ্ঠ ও অবদান আরও বহুদিন শ্রোতাদের মনে বেঁচে থাকুক—এই প্রত্যাশা।


শুভ জন্মদিন, সেলিনা আজাদ। আপনার কণ্ঠের সেই সুরেলা স্মৃতি আজও আমাদের মনে অনুরণিত হয়।