আশৈশব দুটো স্বপ্ন ছিল তাঁর। মায়ের মতো নায়িকা হবেন এবং দিলীপ কুমারকে বিয়ে করবেন।
পূর্ণ হয়েছিল দুই স্বপ্নই সায়রা বানুর।
জীবনসঙ্গী হয়ে এলেন ২২ বছরের বড় এক স্বপ্নপুরুষের।
অথচ, কোনও এক সময় দিলীপ কুমার মোটেও পছন্দ করতেন না তাঁকে। হিন্দি ছবির অপার্থিব এই সুন্দরী আজ পা রাখলেন আশি বছরে।
ব্রিটিশ ভারতের মুসৌরিতে সায়রা বানুর জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৩ আগস্ট আজকের দিনে।
মা ছিলেন তিন ও চার দশকের নামি চিত্রনায়িকা নাসিম বানু। বাবা প্রযোজক এহসান উল হক।
তাঁর বাবার পারিবারিক শেকড় খুবই অভিজাত। কিন্তু মায়ের দিক দিয়ে পারিবারিক অবস্থান বিশেষ সম্মানীয় ছিল না।
সায়রা বানুর দিদিমা ছিলেন চামিয়াঁ বাঈ। বিভিন্ন রাজা সুলতানের দরবারে নৃত্যগীত পরিবেশন করতেন।
ইংরেজিতে পরিশীলিত ভাষায় যাকে বলে ' Courtesean'।
সায়রা বানু ও তাঁর ভাই সুলতান যখন ছোট, বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁদের বাবা মায়ের। দুই ভাইবোনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ইংল্যান্ডে। লন্ডনে দীর্ঘদিন ছিলেন দুজনে।
১৬ বছর বয়সে সায়রা বানুর প্রথম অভিনয়। শাম্মি কাপুরের বিপরীতে 'জংলি' ছবিতে। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত। দর্শক মনে জায়গা করে নেন এই নবাগতা।
তবে সমকালীন নায়িকাদের থেকে পিছিয়ে পড়তেন নাচ না জানায়। কঠোর প্রশিক্ষণে ধ্রুপদী নাচ আয়ত্ত করেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি চূড়ান্ত জনপ্রিয় হয় তাঁর স্টাইল স্টেটমেন্ট। তাঁর বেশিরভাগ পোশাক আর গয়না ছিল মা নাসিম বানুর ডিজাইন করা। ইন্ডিয়ান ও ওয়েস্টার্ন দু'রকমের পোশাকেই স্বচ্ছন্দ তিনি।
শাম্মি কাপুর ছাড়া বিশ্বজিত্, রাজেন্দ্র কুমার, জয় মুখার্জি, ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে জমে ওঠে তাঁর জুটি। গ্ল্যামারাস রোমান্টিক নায়িকার ভূমিকায় তিনি অতুলনীয়া।
তাঁর ফিল্মোগ্রাফিতে উল্লেখযোগ্য হলো আয়ি মিলন কি বেলা, আদমি আউর ইনসান, আও প্যায়ার কঁরে, পুরব অউর পশ্চিম, ব্লাফমাস্টার, দূর কি আওয়াজ, ঝুক গ্যয়া আসমান, পকেটমার এবং অবশ্যই পড়োশন।
দিলীপ কুমারের প্রতি দুর্বলতা কোনোদিনও লুকোননি।
পরিচালকদের কাছে হন্যে দিতেন দিলীপ কুমারের বিপরীতে তাঁকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। দিলীপ কুমার চোস্ত উর্দু বলেন বলে শিক্ষকের কাছে এই ভাষা শিখেছিলেন সায়রা বানু।
শোনা যায় 'রাম অউর শ্যাম' ছবিতে প্রথমে তাঁকেই নায়িকা হিসেবে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু নাকচ করে দেন স্বয়ং দিলীপ কুমার। সায়রা বানু তাঁর থেকে ২২ বছরের ছোট বলে। দুজনের কেরিয়ারে একসঙ্গে ছবি নাম মাত্র।
রাজ কাপুর, দেব আনন্দের সঙ্গেও অভিনয় করে ফেলেছিলেন সায়রা বানু। কিন্তু অধরা ছিল স্বপ্নের নায়কের সঙ্গে কাজ।
মুঘল-এ-আজম ছবির প্রিমিয়ার শো এর পার্টিতে মায়ের ভারী শাড়ি, গয়নায় সেজে গিয়েছিলেন তিনি। শুধু দিলীপ কুমারের জন্য। কিন্তু দিলীপ কুমার নিজেই আসেননি সেখানে।
অবশেষে দিলীপ কুমার এলেন তাঁর জীবনে। সত্যি হল সায়রা বানুর বালিকা বয়সের স্বপ্ন। ১৯৬৬ সালে বিয়ে হল দিলীপ কুমার-সায়রা বানুর। স্বপ্নের মানুষ, মনের মানুষ তখন জীবনসঙ্গী।
দুজনে একসঙ্গে কাটিয়ে দিয়েছেন ৫৩ টি বসন্ত। পরে আরও একবার বিয়ে করেছিলেন দিলীপ কুমার। কিন্তু সেটির স্থায়িত্ব ছিল মাত্র দু’বছর।
ডিভোর্সের পর আবারও সায়রা বানুর জীবনে ফিরে আসেন দিলীপ কুমার এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে সায়রা বানুকে একটি প্রতিশ্রুতিপত্রে সইও করে দিয়েছিলেন দিলীপ কুমার।
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই কথা রেখেছিলেন অভিনেতা। হাজার ঝড় এলেও সঙ্গ ছাড়েননি সায়রা বানুকে।
শুভ কামনা সর্বকালের সৌন্দর্যময়ী সায়রা বানু জন্য।
