শনিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন মেঘলা মুক্তা। তিনি বলেন, “হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর বুঝতে পারছি, এই জার্নি আসলে অনেকটাই আমার একার। কোনো বন্ধু, কোনো কাজ, কোনো মিটিং কিছুই যেন নেই। শুধু আমি, আমার রুম, টিভি, ফোন আর মাঝে মাঝে পড়ার চেষ্টা।”
দুর্ঘটনায় মেঘলার মুখে গুরুতর আঘাত লাগে। অস্ত্রোপচারের পর মুখে এখনো সেলাই ও দাগ রয়েছে। তবে সব বাধা পেরিয়ে কাজে ফিরতে আত্মবিশ্বাসী মেঘলা মুক্তা বলেন, “আয়নায় নিজেকে দেখে শুধু একটা কথাই মনে হয়—আমি খুব তাড়াতাড়ি আবার ফিরে আসব। অনেকে বলেছেন, ‘মুখের সেলাই, দাগ এসব কিছু লিখতে নেই।’ কিন্তু আমি কোনোদিন মানুষের কথায় নিজের গল্প লুকাইনি। যা সত্যি, তা সত্যিই। তাই আজ রাতের নীরবতায় শুধু এটুকু লিখে রাখলাম। আমি লড়ছি এবং আমি ফিরব।”
গত ২৭ জুলাই, ভাঙা মুঠোফোনের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন মেঘলা মুক্তা। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনায় তার ফোনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকবেন। জরুরি প্রয়োজনে ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের পরিবর্তে সরাসরি ফোন করার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।
ওই পোস্টের দুই দিনের মাথায় প্রকাশ্যে আসে মেঘলা মুক্তার সড়ক দুর্ঘটনার খবর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসার পর এখন বাসায় ফিরেছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আরো কিছুটা সময় লাগবে।
মেঘলা মুক্তার শোবিজে পথচলা শুরু মডেলিংয়ের মাধ্যমে। র্যাম্পে কাজের পাশাপাশি বিলবোর্ড ও মিউজিক ভিডিওতেও দেখা গেছে তাকে। পরে বড়পর্দায় অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন এই অভিনেত্রী।
তেলেগু সিনেমা ‘সাকালা কালা ভাল্লাভুডু’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন মেঘলা। বাংলাদেশে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে—‘পায়ের ছাপ’, ‘কাঠগোলাপ’ ও ‘আগুনের পাখি’।
