বিপুল চন্দ জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লীতে এক তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে মানবপাচার আইনে তানিয়া আক্তার (৪৩) নামে এক নারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া একই আইনের অপর একটি ধারায় তানিয়া আক্তারকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে বড় সাজা অর্থাৎ ১০ বছরের কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি তানিয়া আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী ঢাকার সাভারের একটি গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ তানিয়া আক্তার তাকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার যৌনপল্লীতে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়।
পরে ২৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ওই তরুণী ফরিদপুর র্যাব-১০ ক্যাম্পে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে র্যাব সদস্যরা ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় ২৫ মার্চ উদ্ধারকারী র্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার শেখ ইসরাইল আমিন বাদী হয়ে তানিয়া আক্তারকে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল তানিয়া আক্তারকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬ ও ১১ ধারায় আসামিকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এর ফলে দেশে মানবপাচারের প্রবণতা কমে আসবে বলে আশা করা যায়।’