স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন না করায় ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচির ১ হাজার ৯৯৯টি রান্নাঘর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দেশটির জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান সুদারিয়োনো এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এসব রান্নাঘর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নিবন্ধন করে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন সনদ নেয়নি।
সুদারিয়োনো বলেন, বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচির আওতায় খাবার সরবরাহকারী রান্নাঘর পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন সনদ থাকা বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়াজুড়ে এই কর্মসূচির আওতায় ২৭ হাজার ২২টি রান্নাঘর থেকে খাবার বিতরণ করা হচ্ছিল। বন্ধ করে দেওয়া রান্নাঘরগুলো তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান।
তিনি বলেন, খাবারের মান এবং কর্মসূচির আওতায় খাবার পাওয়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশনবিষয়ক নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর উদ্যোগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচি চালু হয়। তবে শুরু থেকেই কর্মসূচিটি নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ, নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং ব্যাপক খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনাও রয়েছে।
শুধু গত সপ্তাহেই দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে বিনামূল্যের খাবার খেয়ে ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসব ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জাতীয় পুষ্টি সংস্থা।
কর্মসূচিটির তদারকির দায়িত্বে থাকা আইনপ্রণেতা চার্লস হনোরিস বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনামূল্যের খাবার খেয়ে খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ।
জাতীয় পুষ্টি সংস্থার মতে, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং খাবার সরবরাহে দেরি হওয়াই বেশির ভাগ খাদ্য বিষক্রিয়ার প্রধান কারণ।
