ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরসহ পাঁচটি বিমানবন্দর আবার চালু হয়েছে। আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার এসব বিমানবন্দরে পুনরায় বিমান চলাচল শুরু হয়। তবে আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত হওয়ায় আবারও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ থেকে শুক্রবার রাতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এরপর আগ্নেয়গিরির ছাই জাকার্তা ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার কারণে দেশটির আটটি বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এতে ৩ লাখ ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানান, বাতাসের কারণে আগ্নেয়গিরির ছাই সরে যাওয়ায় জাকার্তার প্রধান সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মঙ্গলবার আবার চালু করা হয়েছে।
তবে বন্ধ থাকার সময় বিমানবন্দরে আটকে থাকা ১৭৮টি উড়োজাহাজের উড্ডয়নযোগ্যতা পরীক্ষা করা হবে। ফলে সব ফ্লাইট স্বাভাবিক হতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে জানান পরিবহনমন্ত্রী।
৩১ বছর বয়সী যাত্রী আলভিন প্রাতামা পুত্রা জানান, তিনি রোববার দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর ফ্লাইট বৃহস্পতিবারের জন্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরের বেঞ্চে ঘুমিয়ে সময় কাটাতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাকার্তার একটি ছোট বিমানবন্দর এবং পাশের বান্দুং শহরের একটি বিমানবন্দরসহ আরও চারটি বিমানবন্দর মঙ্গলবার চালু হয়েছে। আরেকটি বিমানবন্দর সোমবারই খুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে দুটি বিমানবন্দর এখনো বন্ধ রয়েছে।
বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে দেশটির বিমান সংস্থাগুলো। ইন্দোনেশিয়া ন্যাশনাল এয়ার ক্যারিয়ারস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব বায়ু সুতান্তো বলেন, ফ্লাইট বাতিলের কারণে আয় কমার পাশাপাশি রুট পরিবর্তন, অতিরিক্ত জ্বালানি, উড়োজাহাজ পার্কিং এবং ক্রুদের জন্য অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
তিনি বলেন, সোয়েকার্নো-হাত্তা বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজের ফ্লাইট বিলম্বিত হলে একই উড়োজাহাজ দিয়ে পরিচালিত পরবর্তী তিন থেকে চারটি ফ্লাইটেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বায়ু সুতান্তোর হিসাবে, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৯ বিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রুপিয়া বা প্রায় ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার আনাক ক্রাকাতাউয়ে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে বিমান চলাচলে আবারও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
