সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রেমের টানে মাদারীপুর থেকে মাগুরার শ্রীপুরে চলে এসেছেন এক তরুণী। সমলিঙ্গের দুইজনের এ প্রেমের সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে ফোনে বিবাহ সম্পন্ন করার দাবিতে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার টুপিপাড়া গ্রামের মিরাজ বিশ্বাসের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে মিরা খাতুন এবং মাদারীপুরের রাজৈর থানার লখন্ডা গ্রামের পিজুস গাইনের মেয়ে জয়া গাইনের (২০) মধ্যে প্রায় দুই বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। যোগাযোগের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের দাবি অনুযায়ী, পরবর্তীতে তারা মুঠোফোনের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
এর আগে মিরা খাতুন কাউকে না জানিয়ে মাদারীপুর জয়া গাইনের বাড়িতে গিয়ে পাঁচদিন অবস্থান করেন। পরবর্তীতে শ্রীপুর ও রাজৈর থানা পুলিশের যৌথ সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়।
তবে ঘটনার এখানেই ইতি ঘটেনি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ বজায় রেখে গত সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) জয়া গাইন মাগুরার শ্রীপুরের টুপিপাড়া গ্রামে মিরা খাতুনের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরা খাতুন ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং জয়া গাইন খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। দুজনের দাবি, মুঠোফোনে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর তারা একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়েছেন। জয়া গাইন জানান, পূর্বে এক প্রবাসীর সাথে তার বিয়ে হয়েছিল এবং সেখানে দুই বছর সংসার করার পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিবহির্ভূত এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উৎসুক্য ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মিরা খাতুনের পরিবারের সাথে কথা বললে তারা জানান, সমলিঙ্গের এ সম্পর্ক ও বিয়ে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা সম্ভব নয়। বিষয়টি ইতিমধ্যে স্থানীয় শ্রীপুর থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং জয়া গাইনের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে পৌঁছালে প্রশাসনের সহযোগিতায় আইনি ও সামাজিকভাবে বিষয়টির সুরাহা করা হবে।
শ্রীপুর,মাগুরা প্রতিনিধি
