নীলফামারী সদর উপজেলার ১৫ নম্বর লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতাল এখন যেন মানুষের চিকিৎসার কেন্দ্র নয়, বরং একটি পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে ভবন। বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মাণ করা হলেও হাসপাতালটি কার্যকরভাবে চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—জনগণের চিকিৎসার জন্য নির্মিত হাসপাতাল যদি ব্যবহারই না হয়, তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচের দায় কার?
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও জরাজীর্ণতার চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা না থাকায় ভবন ও আশপাশের পরিবেশেও তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। দিনের বেলাতেও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নেই স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য। স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত স্থাপনার মতো।
যে হাসপাতালটি চালু হলে এলাকার মা ও শিশুরা হাতের কাছে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা ছিল, সেটিই এখন পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজনে স্থানীয়দের ছুটতে হচ্ছে সদরসহ দূরের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ভবনের ফাটল ও নির্মাণের মান নিয়ে। এত বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ব্যবহারের আগেই যদি ভবনে ফাটল দেখা দেয়, তাহলে এর নির্মাণকাজের মান নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ফলে আরও জোরালো হয়েছে প্রশ্ন—হাসপাতালটি কেন চালু হয়নি, ভবনে ফাটল কেন, নির্মাণকাজের মান কী ছিল এবং জনগণের জন্য বরাদ্দ কোটি কোটি টাকার এই স্থাপনার বর্তমান দায়ভার কার?
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি আর ফাইলবন্দি না রেখে সুষ্ঠু তদন্ত, ভবনের কারিগরি পরীক্ষা এবং দ্রুত হাসপাতালটি চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়ম বা নির্মাণগত ত্রুটি পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
মো রাকিব ইসলাম
নীলফামারী
