একসময় পর্দার জনপ্রিয় জুটি, বাস্তবে প্রেমের সম্পর্ক; দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলির সেই অধ্যায় এখন অনেকটাই অতীত। কিন্তু, বহু বছর পর তাদের একসঙ্গে ফেরার খবর সামনে আসতেই পুরোনো সম্পর্ক, বিচ্ছেদ আর ডিভোর্সের প্রসঙ্গই যেন নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে আলোচনায়। এতে বিরক্ত দেব। আক্ষেপের স্বরে এই তারকা জানান, দর্শকের আগ্রহ যেন তার প্রথম পরিচালিত ‘দেশু সেভেন’ সিনেমার আসল গল্পকে ছাপিয়ে না যায়।
দুর্গাপূজায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘দেশু সেভেন’ সিনেমার টিজার ও প্রথম গান প্রকাশের পর দর্শকদের মাঝে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে সিনেমার প্রচারে দেব-শুভশ্রীকে একসঙ্গে দেখলেই তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি কলকাতায় একটি সেলুন উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে নিজের অস্বস্তির কথা জানান দেব।
অভিনেতা জানান, একসময় শুভশ্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এখন তারা ভালো বন্ধু। কিন্তু, তাদের স্বাভাবিক বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকম ব্যাখ্যা পাচ্ছে। এমনকি, কোনো অনুষ্ঠানে শুভশ্রীকে স্বাভাবিকভাবে আলিঙ্গন করলেও তা নিয়ে রিল তৈরি হচ্ছে। ফলে দুজন চাইলেও আগের মতো স্বাভাবিকভাবে কথা বলা বা মেলামেশা করতে অস্বস্তি বোধ করছেন।
দেবের মতে, এর প্রভাব পড়ছে ‘দেশু সেভেন’-এর প্রচারেও। দুজন একসঙ্গে প্রচারে বের হলেই সিনেমার গল্প, নির্মাণ কিংবা চরিত্রের বদলে ঘুরেফিরে সামনে আসছে তাদের পুরোনো সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও ডিভোর্সের প্রসঙ্গ। এতে সিনেমার মূল আকর্ষণগুলো আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।
অথচ ‘দেশু সেভেন’ দেবের ক্যারিয়ারে আলাদা একটি অধ্যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি এবারই প্রথম পরিচালকের আসনে বসেছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি প্রায় ৫০ দিন ধরে শুটিং করা হয়েছে এবং এতে প্রায় ১০ হাজার টেকনিশিয়ান যুক্ত ছিলেন। লাদাখেও হয়েছে সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশের শুটিং।
এ কারণেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের আলোচনা অন্য জায়গায় দেখতে চান দেব। দেবের আক্ষেপ, লাদাখে বাংলা সিনেমার শুটিংয়ের মতো বিষয়ও সেভাবে আলোচনায় আসছে না। পরিচালক হিসেবে তার প্রথম কাজের গল্প, পর্দার নির্মাণশৈলী কিংবা সিনেমার ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
দেবের মতে, শুভশ্রীকে ঘিরে দর্শকের আলাদা আগ্রহ তিনি জানেন। চাইলে শুধু তাদের জুটিকে সামনে রেখে ১২-১৫ দিনের শুটিং করেই একাধিক সিনেমা বানানো সম্ভব ছিল। সেসব সিনেমা ব্যবসায়িক সাফল্যও পেতে পারত। কিন্তু, সহজ ও নিরাপদ পথ বেছে না নিয়ে তিনি এবার অন্য ধরনের গল্প বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে ‘দেশু সেভেন’ নিয়ে দর্শকের আগ্রহের পেছনে শুধু দেব-শুভশ্রীর পুরোনো জুটির নস্টালজিয়াই কাজ করছে না। টিজারে রহস্য, অ্যাকশন ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিতের পাশাপাশি অনির্বাণ ভট্টাচার্যের উপস্থিতিও কৌতূহল বাড়িয়েছে। সিনেমাটি দেব-শুভশ্রীর দীর্ঘ বিরতির পর একসঙ্গে ফেরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তাই দেবের চাওয়া খুব সরল; পুরোনো গল্প থাকুক দর্শকের স্মৃতিতে, কিন্তু নতুন গল্পটিও যেন তার নিজের জায়গা পায়। কারণ ‘দেশু সেভেন’-এ তিনি শুধু বহুদিনের পরিচিত জুটি নিয়ে ফিরছেন না; প্রথমবার নিজের নির্মাণ ভাবনাও বড় পর্দায় তুলে ধরতে যাচ্ছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ‘দেশু সেভেন’ এ বছরের ১৬ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে। এটি দেবের প্রথম পরিচালিত এবং দেব-শুভশ্রীর এক দশকেরও বেশি সময় পর পর্দায় একসঙ্গে ফেরার অন্যতম বড় কারণ। ছবিতে অনির্বাণ ভট্টাচার্যও রয়েছেন।
এছাড়াও, দেব-শুভশ্রীর সাম্প্রতিক কথোপকথন থেকে জানা যায়, তারা এখন নিজেদের অতীতকে অনেক বেশি পরিণতভাবে দেখেন এবং বর্তমান সম্পর্ককে বন্ধুত্বের জায়গা থেকে মূল্য দেন।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা