শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ বরেণ্য অভিনেত্রী শাবানা আজমি'র শুভ জন্মদিন

আজ বরেণ্য অভিনেত্রী শাবানা আজমি'র শুভ জন্মদিন

আজ বরেণ্য অভিনেত্রী শাবানা আজমি'র শুভ জন্মদিন

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেত্রী রয়েছেন, যাঁদের অভিনয় শুধু বিনোদন দেয়নি, বরং সমাজ, নারীজীবন এবং মানবিক বাস্তবতার নানা দিককে পর্দায় তুলে ধরেছে। শাবানা আজমি তাঁদেরই অন্যতম। তাঁর অভিনয়জীবন যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনই চলচ্চিত্রের বাইরেও সমাজকল্যাণ ও নারী অধিকার নিয়ে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে।


জন্ম: ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫০
জন্মস্থান: আজমগড়, উত্তরপ্রদেশ, ভারত
পিতা: কাইফি আজমি — প্রখ্যাত কবি ও গীতিকার
মাতা: শওকত কাইফি — বিশিষ্ট মঞ্চ অভিনেত্রী
স্বামী: জাভেদ আখতার — কবি, গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার
চলচ্চিত্রে অভিষেক: অঙ্কুর (১৯৭৪)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: ৫ বার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার: ৬ বার
পদ্মশ্রী: ১৯৯৮
পদ্মভূষণ: ২০১২


‘অঙ্কুর’ থেকে শুরু এক নতুন অধ্যায়
১৯৭৪ সালে পরিচালক শ্যাম বেনেগালের ‘অঙ্কুর’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হয়। ছবিতে লক্ষ্মী নামের এক গৃহকর্মীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়ে নেয়। প্রথম দিকের এই কাজই তাঁকে সমান্তরাল বা ‘প্যারালাল’ সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে।


পরবর্তীকালে অর্থ, খান্দার, পার, গডমাদারসহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় ভারতীয় চলচ্চিত্রে শক্তিশালী নারীচরিত্রের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। অঙ্কুর (১৯৭৫), অর্থ (১৯৮৩), খান্দার (১৯৮৪), পার (১৯৮৫) এবং গডমাদার (১৯৯৯)—এই পাঁচ ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।


পাঁচটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার এই রেকর্ড তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সর্বাধিক পুরস্কৃত অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পাশাপাশি তিনি ছয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও অর্জন করেছেন।

 

শুধু চলচ্চিত্র নয়, সমাজের প্রতিও দায়বদ্ধতা
শাবানা আজমির পরিচয় শুধু একজন অভিনেত্রীতেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ন্যায়, নারী অধিকার ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয় থেকেছেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি জনজীবনেও তাঁর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।


তাঁর অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—চরিত্রের বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে তার মানসিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক অবস্থান ও মানবিক অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া। তাই তাঁর অভিনীত বহু চরিত্র আজও দর্শকের মনে গভীরভাবে দাগ কেটে আছে।


সম্মান ও স্বীকৃতি
ভারত সরকার তাঁর শিল্পীজীবনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৮ সালে পদ্মশ্রী এবং ২০১২ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে। পদ্মভূষণ ভারতের অন্যতম উচ্চ বেসামরিক সম্মান এবং শাবানা আজমির নাম সরকারি পুরস্কার তালিকাতেও রয়েছে।


১৬০-রও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয়, মঞ্চ, টেলিভিশন এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে কাজ—দীর্ঘ কয়েক দশকের পথচলায় শাবানা আজমি নিজেকে বারবার নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন।


ব্যক্তিজীবনে কবি-গীতিকার জাভেদ আখতারের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্যজীবনও ভারতীয় সাংস্কৃতিক জগতের বহুল পরিচিত এক সম্পর্ক। ১৯৮৪ সালে তাঁদের বিবাহ হয়।

 

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, এই কিংবদন্তি শিল্পীর জন্মদিনে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
আপনার অসামান্য অভিনয় প্রতিভা, শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকুক।

আপনার শিল্পীজীবনের সৃষ্টিগুলো আরও বহু বছর দর্শক ও অনুরাগীদের অনুপ্রাণিত করুক।
শুভ জন্মদিন বলিউড তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী — শাবানা আজমি।

EnteTv News