কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে লেখা এক অমর নায়ক — সালমান শাহ
ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য আবেগের নাম, ভালোবাসার নাম সালমান শাহ। মাত্র ২৭টি সিনেমা উপহার দিয়েই তিনি হয়ে গেছেন আকাশের উজ্জ্বল তারা।
আজ ১৯ সেপ্টেম্বর, সালমান শাহ’র ৫৫-তম জন্মবার্ষিকী। এই দিনে তাঁকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের দারিয়াপাড়ায় নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পারিবারিক নাম ছিল শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। ছোট ভাই শাহরান চৌধুরী ইভান।
কিশোর বয়সে ছিলেন কণ্ঠশিল্পী, পরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু।
১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে তাঁর। প্রথম ছবিতেই ঝড় তোলেন বাংলা সিনেমায়।
মাত্র ৪ বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং প্রায় প্রতিটি ছবিই ছিল ব্যবসাসফল।
তাঁর জুটি শাবনূরের সঙ্গে ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় — একসাথে তাঁরা অভিনয় করেছেন ১৪টি সিনেমায়।
এছাড়া মৌসুমী, শাবনাজ, শামীমা, দিতি, সিমলা, বৃষ্টির মতো নায়িকাদের সঙ্গেও করেছিলেন সফল জুটি।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। আদালত থেকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, তাঁর পরিবার ও অসংখ্য ভক্তের দাবি— এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। এখনো মামলা বিচারাধীন।
মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়েও ফুরায়নি সালমানের আবেদন, কাটেনি তাঁর প্রভাব। অনেকের মতে, অকালমৃত্যুই তাঁকে দিয়েছে অমরত্ব। তর্ক-বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, আজও সালমান শাহ’র মতো জনপ্রিয়তা আর কাউকে স্পর্শ করেনি।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে সর্বকালের সেরা স্টাইল আইকন ও ফ্যাশনেবল হিরো হিসেবে তিনি আজও অনন্য।
সালমান শাহ বেঁচে আছেন কোটি ভক্ত-অনুরাগীর হৃদয়ে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
অমর নায়ক সালমান শাহকে জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা