মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ঝামা গ্রামে সাবেক ইউপি সদস্য ঝর্না বেগমের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বসতঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় মালামাল ও পরিবারের ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেশীরা জান, নদীপাড়ের এই পরিবারটি মধুমতি নদীর ভাঙনে এরই মধ্যে তিনবার বসতভিটা হারিয়ে ঘর সরিয়ে নিয়েছে। নদীভাঙনের ক্ষত সামলে কোনোভাবে নতুন করে ঘর গড়ে তোলার পর এবার ভয়াবহ আগুনে তাদের অবশিষ্ট সম্বলটুকুও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটায় ঝর্না বেগমের বাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। দুর্গম এলাকায় হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রি। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবার ও কিছু কম্বলের ব্যবস্থা করেন।
এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, নদীভাঙনে বারবার ঘরবাড়ি হারানোর পর এবার আগুনে শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছে। তাদের পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মহম্মদপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ। তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
নদীভাঙনের পর এবার আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারটির সামনে এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ।
শাহ আমানত মিঠু
মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
