রাজধানীর আইডিইবি অডিটোরিয়ামে ইয়ুথ আপস্কিল নেটওয়ার্ক—ইউনেটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ গেমিং ও ইস্পোর্টস সামিট ২০২৫। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী আয়োজিত সামিটে দেশের গেমিং ও ইস্পোর্টস খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং কর্মসংস্থানের দিকগুলো তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের মতে, সামিটটি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গেমিং ও ইস্পোর্টস ইকোসিস্টেমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।সামিটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী, গেম ডেভেলপার, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ইন্ডাস্ট্রি লিডার এবং গেমিং কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে ২৫ জনেরও বেশি বক্তা বক্তব্য দেন, যাদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তি পেশাজীবী, গেম ডেভেলপার এবং ইস্পোর্টস খাতের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে গেমিং ও ইস্পোর্টসের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন এবং এই খাত কীভাবে যুব কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ডিজিটাল বিনোদন ও ইন্টারঅ্যাকটিভ মিডিয়ার দ্রুত বিকাশের ফলে বাংলাদেশ গেম ডেভেলপমেন্ট, প্রোডাকশন, ম্যানেজমেন্ট এবং প্রতিযোগিতামূলক ইস্পোর্টসের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে।
সামিটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইন্টার ইউনিভার্সিটি ইস্পোর্টস ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ (আইইউইসিসি ২০২৫)-এর গ্র্যান্ড ফিনাল। প্রতিযোগিতায় দেশের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্পোর্টস ক্লাব অংশ নেয়। ভ্যালোরেন্ট, মোবাইল লেজেন্ডস, পাবজি মোবাইল, ইএ স্পোর্টস এফসি এবং ই-ফুটবল—এই পাঁচটি গেমে দিনব্যাপী প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ইস্পোর্টস ক্লাব প্রথমবারের মতো জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। রানার-আপ হয় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) ইস্পোর্টস ক্লাব। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে এই চ্যাম্পিয়নশিপ একটি জাতীয় পর্যায়ের কলেজিয়েট ইস্পোর্টস ঐতিহ্যে পরিণত হতে পারে।
এছাড়া সামিটে ইন্টারন্যাশনাল গেম ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশন (IGDA) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় BGES গেম ডেভেলপার অ্যাওয়ার্ডস। এতে গোল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে কম্প্রেস স্পেস (বি-দেশি ইন্টারঅ্যাকটিভ), সিলভার অ্যাওয়ার্ড পায় নাল (এসএস স্টুডিও) এবং ব্রোঞ্জ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে মটোরশ্যুটার (ইন্ডি ডেভেলপার ইমতিয়াজ আহমেদ দীপ্ত)। আয়োজকদের মতে, এই পুরস্কারগুলো বাংলাদেশের গেম ডেভেলপমেন্ট খাতে তরুণদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী আগ্রহের প্রতিফলন।
