১৯৭২ সালের ২৬ অক্টোবর ফরিদপুর সদরের কমলাপুর মহল্লার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। পৈত্রিক নিবাস যশোর জেলায় হলেও, শৈশব কেটেছে ফরিদপুরেই। বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে রিয়াজ কনিষ্ঠ।
ফরিদপুর জিলা স্কুল ও ময়েজউদ্দীন হাই স্কুল থেকে শিক্ষা শেষ করে তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় এলেও পারিবারিক অনুপ্রেরণায় যোগ দেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে। সেখানে বৈমানিক প্রশিক্ষণ শেষে জেট ফাইটার চালনায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং প্রায় ৩০০ ঘণ্টা উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন।
পরে বিমানবাহিনী থেকে বিদায় নিয়ে ভাগ্য মোড় নেয় রূপালি পর্দার দিকে — চাচাতো বোন, বিখ্যাত অভিনেত্রী ববিতার হাত ধরেই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তাঁর।
১৯৯৫ সালে অভিনয় জীবন শুরু করে তিনি দ্রুতই ঢালিউডের শীর্ষস্থানীয় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
রিয়াজ অভিনীত জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে —
ভালোবাসবো তোমায়, প্রাণের চেয়ে প্রিয়, নিঃশ্বাসে তুমি, ও প্রিয়া তুমি কোথায়, রং নাম্বার, মাটির ফুল, হৃদয়ের কথা, লোভে পাপে পাপে মৃত্যু, মধুমতি, দারুচিনি দ্বীপ, হাজার বছর ধরে, দুই দুয়ারী, চন্দ্রগ্রহণ, কি যাদু করিলা প্রভৃতি।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও তিনি সফল।
২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হৃদয়ের কথা’ চলচ্চিত্রটি তাঁর প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছিল।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রিয়াজ তিনবার অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা অভিনেতা বিভাগে)।
ব্যক্তিজীবনে তিনি ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিনোদন বিচিত্রার ফটো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় বিজয়ী মুশফিকা তিনার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
জন্মদিনে রইল প্রিয় এই অভিনেতার প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
তাঁর জীবন হোক আরও সাফল্য ও আলোয় ভরপুর বাংলা সিনেমা যেন আরও বহু বছর উজ্জ্বল হয়ে থাকে তাঁর অভিনয়ে।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা
