সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইতালির এক গ্রামে ৩০ বছর পর প্রথম শিশুর জন্ম, বইছে আনন্দের বন্যা

ইতালির এক গ্রামে ৩০ বছর পর প্রথম শিশুর জন্ম, বইছে আনন্দের বন্যা

ইতালির এক গ্রামে ৩০ বছর পর প্রথম শিশুর জন্ম, বইছে আনন্দের বন্যা

ইতালির আবরুজো অঞ্চলের পাহাড়ঘেরা গ্রাম ‘পাগলিয়ারা দেই মার্সি’। কয়েক দশক ধরে গ্রামটি পরিচিত ছিল মানুষের চেয়ে বিড়ালের আধিক্যের জন্য। জনশূন্য এই জনপদে গত ৩০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো শিশুর জন্ম হয়েছে। ‘লারা বুসি ট্রাবুক্কো’ নামের এই শিশুর আগমনে গ্রামজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা, তবে একই সঙ্গে এটি ইতালির ভয়াবহ জন্মহার হ্রাসের সংকটকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

লারার জন্মের পর গ্রামটির জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০-এ। তার মা সিনজিয়া ট্রাবুক্কো শহরের কোলাহল ছেড়ে নির্জনে সন্তান বড় করার আশায় তার দাদার আদি গ্রামে ফিরে এসেছিলেন। লারা এখন এতটাই জনপ্রিয় যে, তাকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা এই নিভৃত গ্রামে ভিড় করছেন।

তবে লারার এই আগমন ইতালির এক রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইস্ট্যাট’-এর তথ্যমতে, দেশটিতে জন্মহার বর্তমানে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন। ২০২৪ সালে দেশটিতে মাত্র ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৯৪৪টি শিশুর জন্ম হয়েছে। প্রজনন হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ দশমিক ১৮, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, এই সংকটের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থানের খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব। এছাড়া চড়া কর ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও জীবনযাত্রার মান ও সেবার ঘাটতি।

সরকার ‘বেবি বোনাস’ বা আর্থিক প্রণোদনা দিলেও লারার মা সিনজিয়ার মতে, শুধু টাকা দিয়ে এই ধারা বদলানো সম্ভব নয়; প্রয়োজন পুরো সিস্টেমের আমূল পরিবর্তন। স্থানীয় মেয়র জিউসেপিনা পেরোজ্জি জানান, অনেক বয়স্ক মানুষ মারা যাচ্ছেন কিন্তু তাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মতো নতুন প্রজন্ম নেই, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও অবকাঠামোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং প্রসূতি বিভাগগুলোতে পর্যাপ্ত রোগী না থাকায় হাসপাতাল সেবা সংকুচিত হওয়া ইতালির এই জনমিতি সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। পাগলিয়ারা দেই মার্সির লারা যেন এখন পুরো ইতালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের এক প্রতীকী নাম।