ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন যাচাই–বাছাই শেষে মোট ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ও রোববার (৪ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যাচাই–বাছাই কার্যক্রম শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জ–১ আসনে নাগরিক ঐক্যের মো. নাজমুস সাকিব ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সবুরের কাগজপত্রে ত্রুটি পাওয়ায় তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ–২ আসনে জনতা দলের মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকায় এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. আনোয়ার হোসেনের কাগজপত্রে ত্রুটির কারণে তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনেও পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ থাকে।
সিরাজগঞ্জ–৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াস রেজা রবিন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ আব্দুর রউফ সরকারের কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনে তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ–৪ (উল্লাপাড়া) আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে সিপিবির প্রার্থী আব্দুল হাকিমের ক্ষেত্রে দলের নেতার স্বাক্ষরে অসঙ্গতি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর হোসাইনের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
সিরাজগঞ্জ–৫ (বেলকুচি–চৌহালী) আসনে সিপিবির প্রার্থী মতিয়ার রহমানের মনোনয়নপত্র দলের নেতার স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মওলা খান বাবলুর মনোনয়নপত্র এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় বাতিল করা হয়।
সিরাজগঞ্জ–৬ (শাহজাদপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকা সত্ত্বেও দলের নামে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শফিকুল ইসলাম ছালামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একই আসনে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবির ও ওয়াসেক ইকবাল খান মজলিসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
জেলায় ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই–বাছাই শেষে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে।
ইসমাইল হোসেন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
