আন্তর্জাতিক ক্যাডেট বিনিময় কর্মসূচি ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর একটি প্রতিনিধিদল মালদ্বীপে অবস্থানকালে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের চ্যান্সারি ভবনে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে সামরিক প্রশিক্ষণ, ক্যাডেট ও যুব পর্যায়ের বিনিময় কর্মসূচি, ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগ এবং উদীয়মান সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। মান্যবর হাইকমিশনার প্রতিরক্ষা কূটনীতিকে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্যাডেট বিনিময় কর্মসূচির মতো উদ্যোগ ভবিষ্যৎ সামরিক নেতাদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তিনি এ কর্মসূচিকে বাংলাদেশের সামরিক সফট পাওয়ার ও জনকূটনীতির একটি সফল উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্যাডেট বিনিময় কর্মসূচি ২০২৬ মালদ্বীপে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের ক্যাডেটদের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, যা আঞ্চলিক শান্তি, সহযোগিতা ও আস্থাবর্ধক ব্যবস্থার প্রতি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
বিএনসিসি প্রতিনিধিদলটি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ মালদ্বীপে আগমন করে এবং ৯ জানুয়ারি ২০২৬ কর্মসূচি শেষে দেশে প্রত্যাবর্তনের কথা রয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ আল মাসুদ, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদলটি মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স, কোস্ট গার্ড জাহাজ ‘হুরাভী’ গিরিফুশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পরিদর্শন করে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাডেটরা মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এ সফর দুই দেশের মধ্যে সামরিক থেকে সামরিক, প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠান এবং জনগণ থেকে জনগণের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ক্যাডেট ও যুব পর্যায়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।
