সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দুর্নীতিমুক্ত সুন্দরগঞ্জ গড়তে দাঁড়িপাল্লা মার্কার বিকল্প নেই অধ্যাপক মাজেদুর রহমান

দুর্নীতিমুক্ত সুন্দরগঞ্জ গড়তে দাঁড়িপাল্লা মার্কার বিকল্প নেই অধ্যাপক মাজেদুর রহমান

দুর্নীতিমুক্ত সুন্দরগঞ্জ গড়তে দাঁড়িপাল্লা মার্কার বিকল্প নেই অধ্যাপক মাজেদুর রহমান


গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেছেন, সুন্দরগঞ্জ নামেই সুন্দর, কিন্তু আজও অর্ধেকের বেশি রাস্তা কাঁচা। গত কয়েক দশকে যে বাজেট এসেছে, তা সঠিকভাবে ব্যবহার হলে একটি রাস্তাও কাঁচা থাকার কথা নয়। দুর্নীতির কারণেই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত সুন্দরগঞ্জ ও স্বাবলম্বী জনপদ গড়তে দাঁড়িপাল্লা মার্কার বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, যত ষড়যন্ত্রই হোক, সুন্দরগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীকে পরাস্ত করা যাবে না, ইনশাআল্লাহ।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে সুন্দরগঞ্জ পৌরশহরের স্বাধীনতা চত্বরে দহবন্দ ইউনিয়ন জামায়াতের আয়োজনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, সুন্দরগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছে। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুল আজিজকে মিথ্যা মামলায় দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। তার লাশ দেশে আনা যায়নি, জানাজাও আদায় করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে জুয়েল রানা, ফরিদুল ইসলাম ও সোহানুর রহমান সোহানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং শাহাবুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতের উচ্চ মাকাম কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ ও ২০০১ সালে সুন্দরগঞ্জ থেকে জামায়াত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। ২০১৪ সালে আমি নিজে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। জনগণ আমাদের কাজ দেখে ভোট দিয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মাওলানা আব্দুল আজিজের সময়ে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আজও মানুষ স্মরণ করে।

২০১৪ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাকে না দেখেই মানুষ ব্যাটারি মার্কায় ভোট দিয়েছিল। শপথ নিতে গিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। এরপর আবার বরখাস্ত ও মামলা দেওয়া হয়। তবুও দায়িত্বে থাকাকালীন মানুষের উন্নয়ন ছাড়া আর কিছু করিনি। এক টাকার দুর্নীতির অভিযোগও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।

জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারাদেশে জামায়াত থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রীরা তিনটি মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সামান্য দুর্নীতির প্রমাণও পাওয়া যায়নি। অথচ অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, শুধুমাত্র দলকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষের মুখে এখন একটাই কথা, দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে বিজয়ী করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশ দলীয় জোট বিজয়ী হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, এই প্রত্যাশায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

এ সময় তিনি নির্বাচনসংক্রান্ত অনিয়ম ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

দহবন্দ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ওসমান গণীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির জেলা আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম, সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজু, জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী লুৎফর রহমান বকসি, আমার বাংলাদেশ পার্টির উপজেলা আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মুফতি মাহমুদ আল মামুন।

দহবন্দ ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি রোকনুজ্জামানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন পৌর জামায়াতের আমীর একরামুল হক, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আমিন, উপজেলা শিবির সভাপতি সোহান ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দহবন্দ ইউনিয়ন সভাপতি মাইদুল ইসলাম, দহবন্দ ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি হুমায়ুন কবির প্রমূখ।