শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রিলায়েন্স বহুমুখী সমিতির কোটি কোটি টাকা হরিলুট

রিলায়েন্স বহুমুখী সমিতির কোটি কোটি টাকা হরিলুট

রিলায়েন্স বহুমুখী সমিতির কোটি কোটি টাকা হরিলুট

আবারো আলোচনায় এসেছে রিলায়েন্স বহুমুখী সমবায় সমিতি। সমিতির গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠেছে। আত্মসাৎ করা টাকায় সমিতির কর্তাব্যক্তিরা ঢাকায় আলিশান জীবন যাপন করছেন। ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট ও প্লট কিনেছেন। গ্রাহকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করছে না সমিতি। দিনের পর দিন ঘুরেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। সম্প্রতি সমিতির কর্তাব্যক্তিরা তড়িঘড়ি করে বার্ষিক নির্বাচন করে পকেট কমিটি গঠনের চেষ্টা করছেন। যা গ্রাহকদের অনেকেরই অজানা।

সমবায় অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্প্রতি সমিতিটি বার্ষিক নির্বাচন-২০২৬ ইং করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে মোতাবেক তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিলে চলতি বছরের ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি মনোনয়ন ফরম বিতরণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। যা সর্ম্পূণ অযৌক্তিক। এমনকি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় দেওয়া হয় ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। এটিও অযৌক্তিক। ইতোপূর্বে সমিতিটির কোন নির্বাচনে এত কম সময়ের মধ্যে সব কিছু করা হয়নি। তফসিলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একদিন রাখা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগের নির্বাচনে সদস্য বা ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় চারশ’ জন। এবারের নির্বাচনে ভোটার বা সদস্য সংখ্যা মাত্র ৯২ জন। ৯২ জন ভোটারের নামীয় তালিকা প্রকাশ করে তফসিল ঘোষণা করা হয়। যা সর্ম্পূণ বেআইনী। বাকি ভোটার বা সদস্যদের সর্ম্পকে সুস্পষ্ট কোন তথ্য দেয়নি সমিতির কর্তাব্যক্তিরা। সমিতির অনেকেই না জানার কারণে ভোটার হতে পারেননি। মূলত সদস্যদের নির্বাচনের বিষয়ে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ আছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হলে যেকোন ধরণের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টির হতে পারে। 

সমবায় অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে সমিতিটি সরকারি রেজিষ্টেশনভ’ক্ত হয়। যার নম্বর-৩১৯। সমিতিটি ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা সমবায় অফিসের অধীন। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সমিতির সদস্য সংখ্যা ছিল দুই হাজারের বেশী। ২৬ বছর আগে তৈরি হওয়া সমিতির সদস্যদের অনেকেই এখন আর জীবিত নেই। মৃত সদস্যদের পাওনা মিটানো হয়েছে দায়সারাভাবে। তাদের প্রাপ্য পাওনা তারা পাননি। সমিতির টাকায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাশে জমি কেনা হয়েছে। সেই জমির মালিক স্বাভাবিক কারণেই সমিতির সদস্যরা। কিন্তু সমিতির অধিকাংশ সদস্যই নিজের প্লট বুঝে পাননি। সাধারণ সদস্যদের মধ্যে যারা প্লট পেয়েছেন, আগামী কয়েক যুগ পরেও তারা নিজেদের প্লটে বাড়ি করতে পারবেন না। সেই পরিবেশ নেই। খানাখন্দে ভরপুর। আবার যেসব জমি উন্নত করা হয়েছে, সেগুলো সমিতির কর্তা ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতি দেখে অনেক সদস্য তাদের পাওনা টাকার জন্য সমিতির অফিসে আবেদন করেন। কিন্ত তা আমলেই নেয়নি। অনেকেই কিছু কিছু টাকা ফেরত পেলেও, অধিকাংশ গ্রাহক এখনো মূল টাকাও ফেরত পায়নি বলে অভিযোগ আছে। এছাড়া লভ্যাংশ দেওয়া তো দূরের কথা। সমিতির কর্তা ব্যক্তিরা ইতোমধ্যেই অনেক জমি মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করে কিছু কিছু পাওনাদারদের টাকা দিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব পাওনাদার ক্ষমতা দেখাতে পেরেছেন, তারাই পাওনা টাকা পেয়েছেন। বাকিরা না পাওয়ার মত। বাকি টাকায় সমিতির কর্তা ব্যক্তিরা ঢাকার ধানমন্ডি ও বসুন্ধরাসহ অভিজাত এলাকায় প্লট ও ফ্ল্যাট কিনে বসবাস করছেন। তাদের বাসার ঠিকানা সাধারণত সমিতি কার্যালয়ে কর্মরত কেউ গ্রাহকদের দেন না। সমিতির কার্যালয় এতদিন একটি সুরক্ষিত জায়গায় পরিকল্পিতভাবে রাখা হয়েছিল। যাতে করে সেখানে সর্বসাধারণ প্রবেশ করতে না পারেন। পরবর্তীতে সমিতির অফিস নিউ মার্কেট থানা এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। 

সমবায় অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে সমবায় অধিদপ্তরের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত। যাদের যোগসাজশে একটি সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়েও তিনি সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মাকসুদুর রহমানের নামেও ওই সরকারি কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার তিন বছর আগেই সমিতির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ আইনে কোন সরকারি কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার নূন্যতম তিন বছরের মধ্যে কোন ধরণের রাজনৈতিক দলের সদস্য পর্যন্ত হতে পারেন না। অথচ তিনি সমবায় সমিতির মত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে মাসিক বেতন নিয়েছেন। আরেক সরকারি কর্মকর্তা সরাসরি নিজে জড়িত। কিন্তু তিনি বেনামে। স্ত্রী সদস্য হওয়ার সুবাধে তিনি সমিতির সার্বিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্যান্য কর্মকাণ্ডে জড়িত। সমিতির মাধ্যমে একটি রিলায়েন্স ডেভেলপার নামক একটি কম্পানী তৈরি করা হয়েছে। কম্পানীর সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন ওই পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। 

সমবায় অধিদপ্তর বলছে, বর্তমান সরকার মাত্র ক্ষমতা নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন করার অর্থ হচ্ছে সমিতি কর্তৃপক্ষ তাদের পছন্দসই পকেট কমিটি গঠনের চেষ্টা করছে। এতে করে সমবায় অধিদপ্তরের সুনাম ক্ষুন্ন হবে। কারণ সারা দেশে লাখ লাখ সমিতি গঠন করে গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার এসব বিষয়ে কোন ধরণের ছাড় দিতে রাজি নয়। বিশেষ করে সমবায় অধিদপ্তর এ ধরণের পাতানো নির্বাচন করে সুনাম ক্ষুন্ন করতে রাজি না। এ ছাড়া সমিতির এক গ্রাহকের অর্থ পরিশোধ না করার বিষয়ে দূর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেছেন।