দেশের মসলার চাহিদা পূরণে এখনো অনেকাংশে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে এবার মাগুরার শালিখা উপজেলায় চলতি মৌসুমে মসলা জাতীয় ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, হলুদ, আদাসহ বিভিন্ন মসলা জাতীয় ফসলের ভালো উৎপাদনে খুশি হয়ে উঠেছেন উপজেলার কৃষকরা।
কৃষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে এ বছর মসলা জাতীয় ফসলের উৎপাদন বেড়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, হলুদ, আদা, কালোজিরা ও ধনিয়ার চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক ক্ষেত থেকে ফসল সংগ্রহ শুরু করেছেন। বাজারে মসলা জাতীয় ফসলের দামও তুলনামূলক ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর রোগবালাই তুলনামূলক কম ছিল। ফলে ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ পাওয়ায় তারা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে পেরেছেন।
উপজেলার ধনেশ্বরগাতি ইউনিয়নের থৈপাড়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি রজত বাড়ই জানান, এবার তিনি কৃষি অফিসের পরামর্শে সরকারি প্রণোদনার আওতায় ৩৩ শতাংশ জমিসহ মোট ৩ একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন এবং আরও প্রায় ১৩০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন। তবে বাজারে পেঁয়াজের দাম কম থাকায় লাভ কিছুটা কম হতে পারে বলে তিনি জানান।
শালিখা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজ ৯৩৮ হেক্টর, রসুন ১৭৫ হেক্টর ও হলুদ ৪৩ হেক্টরসহ মোট ১৩৮৯ হেক্টর জমিতে মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ বেড়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ বাম্পার ফলন কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করবে এবং স্থানীয় বাজারে মসলার সরবরাহ বাড়াবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসনাত জানান, কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ আরও বাড়াতে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
