একাধারে এক অনন্য প্রতিভার নাম। তিনি একজন নন্দিত নাট্যনির্দেশক, অভিনেত্রী, গীতিকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক। শিল্প–সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা এই প্রতিভাবান নারীর জন্ম ২৯ জুলাই।
তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠা একটি গুণী পরিবারে — বাবা কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক এবং মা বিশিষ্ট অভিনেত্রী লাকী ইনাম। হৃদি হক তাঁদের বড় সন্তান। তাঁদের পৈতৃক নিবাস ফেনী জেলায়।
শিক্ষাজীবন শুরু করেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাট্যকলায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
ব্যক্তিজীবনে তাঁর স্বামী জনপ্রিয় অভিনেতা লিটু আনাম। তাঁদের ঘর আলো করে এসেছে জমজ দুই সন্তান — অনিরূদ্ধ ও অনসূয়া।
হৃদি হক ১৯৯৫ সাল থেকে নাট্যসংগঠন নাগরিক নাট্যাঙ্গন–এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। মঞ্চে অভিনয় করেছেন ‘গোলমাথা’, ‘চোখামাথা’, ‘প্রাগৈতিহাসিক’-এর মতো দর্শকপ্রিয় নাটকে। নাট্য নির্দেশক হিসেবেও তিনি সমান সফল — তাঁর নির্দেশিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’, ‘৭১ ও একজন’ প্রভৃতি।
মঞ্চ ছাড়িয়ে টিভি নাট্যজগতে তিনি নিজের পরিচয় গড়েছেন শক্ত হাতে। তাঁর রচনায় ও নির্দেশনায় তৈরি হয়েছে বহু প্রশংসিত ধারাবাহিক — আমাদের আনন্দবাড়ী, দেওয়াল, ইকারাসের ডানা ইত্যাদি যার মধ্যে অন্যতম।
১৯২০ নামের একটি নাটকের মাধ্যমে তিনি বিশেষভাবে আলোচিত হন। পাশাপাশি টেলিভিশনে পরিচালনা করেছেন ‘নাইনটিন টুয়েন্টি’ এবং ‘মিডিয়া ভুবন’–এর মতো অনুষ্ঠান।
সর্বশেষ, হৃদি হক সরকারি অনুদানে নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ — যেটি তাঁর বাবা ড. ইনামুল হকের গল্প ভাবনার ভিত্তিতে নির্মিত। সংলাপ, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা — সবই ছিল তাঁর নিজ হাতে গড়া। এই চলচ্চিত্র তাঁকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বহুমাত্রিক প্রশংসা।
আজকের এই বিশেষ দিনে তাঁর জন্য রইল প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অশেষ শুভকামনা।
নাটক, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকুক।
শুভ জন্মদিন হৃদি হক।