শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইরানের স্কুলে হামলা করে ১৭০ শিশু হত্যার কুশীলব কে

ইরানের স্কুলে হামলা করে ১৭০ শিশু হত্যার কুশীলব কে

ইরানের স্কুলে হামলা করে ১৭০ শিশু হত্যার কুশীলব কে

ইরান যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। এরপর শুরু হওয়া যুদ্ধের দুই সপ্তাহ পূর্ণ হতে চলেছে। এখন পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট হামলা এই সংঘাতের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে আক্রমণের শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই স্কুলছাত্রী।

এর পর থেকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছে, যদিও এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী—এমন প্রমাণ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সমালোচকদের কাছে এই স্কুলে বোমা হামলার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের ভয়াবহতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানও এর জবাবে কেবল ইসরাইল বা এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেই নয়, বরং তাদের সেইসব উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের ওপরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যারা এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।ইরানের স্কুলটিতে হওয়া ওই হামলায় আসলে কী ঘটেছিল

শাজারেহ তাইয়্যেবা নামে বালিকা বিদ্যালয়টি ইরানের মিনাব শহরে অবস্থিত ছিল, যা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি ঘাঁটির কাছেই অবস্থিত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিটে, যখন ক্লাস পুরোদমে চলছিল, তখন একটি ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে আঘাত হানে। বিস্ফোরণে দোতলা ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর ছাদ ধসে পড়ে।

এতে অন্তত ১৭০ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিল শিশু। এছাড়া আরও ডজনখানেক মানুষ আহত হন।

স্কুলটি ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজগান প্রদেশের মিনাবে অবস্থিত। প্রদেশটি হরমুজ প্রণালীর ওপর নজর রাখে এবং এখানে আইআরজিসির বেশ কয়েকটি নৌ-ঘাঁটি রয়েছে।ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটকে দায়ী করলেও উভয় দেশই তা অস্বীকার করেছে।

সেদিন সকালে তোলা স্যাটেলাইট ছবিতে স্কুলটিকে অক্ষত দেখা গিয়েছিল। সেই সকালেই মিনাব ও হরমুজগানের অন্যান্য অংশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বিমান হামলা শুরু হয়েছিল।

হামলার জন্য ইরান কাকে দায়ী করছে

ইরান এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয় দেশকেই দায়ী করেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হামলার একটি ছবি শেয়ার করেন। তিনি জানান, হামলায় বালিকা বিদ্যালয়টি ধ্বংস হয়েছে এবং ‘নিরপরাধ শিশুরা’ প্রাণ হারিয়েছে।

এক্সে এক পোস্টে আরাকচি লেখেন, ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে এই অপরাধের কোনো জবাব দেওয়া হবে না, এমনটা ভাবার কারণ নেই।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও এ জঘন্য অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার বাঘাই বলেন যে, মিনাবের স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি ছিল একটি 'ডাবল-ট্যাপ' হামলা।

‘ডাবল-ট্যাপ’ বলতে মূলত একই লক্ষ্যবস্তুতে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি হামলাকে বোঝায়। প্রথম হামলাটি মূল লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করার জন্য এবং দ্বিতীয়টি যারা ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করতে বা প্রথম বিস্ফোরণের পর উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন, তাদের লক্ষ্য করে চালানো হয়।

প্রমাণগুলো কোন দিকে ইঙ্গিত করছে

ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ দেখে ধারণা করা হচ্ছে যে, স্কুলটিতে সম্ভবত একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লক্ষ্য নির্ধারণে ভুলের কারণে স্কুলটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে, তবে সঠিক পরিস্থিতি এখনও তদন্তাধীন।

বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত পুরনো তথ্যের কারণে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। স্কুলটি আইআরজিসি নৌবাহিনীর ব্যবহৃত ভবনগুলোর একই ব্লকে অবস্থিত এবং একসময় স্কুলটি ওই ঘাঁটিরই অংশ ছিল।

কয়েক বছর আগে স্কুলটিকে পৃথক করা হয়েছিল এবং এর নিজস্ব প্রাচীর ও প্রবেশপথ তৈরি করা হয়েছিল।ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর সিনিয়র উপদেষ্টা এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেন, মনে হচ্ছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ রাখেনি।

তিনি আরও যোগ করেন, স্পষ্টতই, ভবনটি কয়েক বছর আগে সামরিক ব্যবহার থেকে স্কুলে রূপান্তরিত হয়েছিল এবং সেন্ট্রাল কমান্ডের টার্গেটিং সেল সেই পরিবর্তনটি ধরতে পারেনি।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর মেডিকেল কমান্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত 'শহীদ আবসালান ক্লিনিক' এই স্থান থেকে প্রায় ২৩৮ মিটার (৭৮০ ফুট) দূরে এবং 'সৈয়দ আল-শোহাদা আইআরজিসি কালচারাল কমপ্লেক্স' ২৮৬ মিটার (৯৩৮ ফুট) দূরে অবস্থিত।

হামলাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী বলেছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই হামলার জন্য ইরান নিজেই দায়ী হতে পারে—যদিও তখন বা এখন পর্যন্ত এই হামলায় ইরানের কোনো ভূমিকা থাকার সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শনিবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যা দেখেছি, তার ওপর ভিত্তি করে বলতে পারি এটি ইরানই করেছে। আমরা মনে করি, এটি ইরান করেছে কারণ আপনারা জানেন যে, তাদের গোলাবারুদ মোটেও নির্ভুল নয়। তাদের লক্ষ্যভেদের কোনো ক্ষমতাই নেই। এটি ইরানই করেছে।’

সেই সময় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ট্রাম্পের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি ট্রাম্পের এই মূল্যায়নকে সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরিবর্তে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, পেন্টাগন ঘটনাটি তদন্ত করছে।

তবে বুধবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, লক্ষ্য নির্ধারণে ভুলের কারণে স্কুলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। পত্রিকাটি মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে তদন্ত এখনও চলছে, তবে প্রাথমিক ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী।

প্রতিবেদনটি সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এ সম্পর্কে কিছু জানি না।’

সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরও বলেন, ইরানের কাছেও ‘কিছু টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে’– যা সামরিক বিশেষজ্ঞরা ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলকে লক্ষ্যবস্তু করবে না।

ওয়াশিংটন ডি.সি. থেকে প্রতিবেদক মাইক হানা জানিয়েছেন, ‘[ট্রাম্প] প্রশাসনের সদস্যরা বলছেন যে একটি তদন্ত চলছে এবং চলমান তদন্তের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।’

ইসরাইল কী বলেছে

ইসরাইল এই ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।

ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, ‘আমরা একাধিকবার পরীক্ষা করে দেখেছি এবং [ইসরাইলি সেনাবাহিনী] ও ওই স্কুলে যা ঘটেছে তার মধ্যে কোনো সংযোগ খুঁজে পাইনি।’

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটরা কী দাবি করছেন

মার্কিন সিনেটের প্রায় সব ডেমোক্র্যাট সদস্য একটি ‘দ্রুত তদন্তের’ আহ্বান জানিয়ে হেগসেথকে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।

৪৬ জন সিনেটরের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘এই স্কুল হামলার ফলাফল ভয়াবহ। হামলায় নিহতদের অধিকাংশ ছিল ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী বালিকা। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল সরকার—কেউই এখনও এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।’

চিঠিতে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—মার্কিন বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে কি না, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি রোধ ও প্রশমনে সামরিক বাহিনী কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এই অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুলের কী ভূমিকা ছিল।

কানসিয়ান বলেন, যদি মার্কিন বাহিনীর ভূমিকা নিশ্চিত হয়, তবে ‘এটি সামরিক বাহিনীর জন্য লজ্জাজনক হবে, কারণ তারা অন্য সব ক্ষেত্রে বেশ নিখুঁত অভিযান পরিচালনা করেছে। এটি কংগ্রেসে এবং জনগণের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বাড়িয়ে দেবে।’

এর আগে কি এমনটা ঘটেছে

কেবল সামরিক স্থাপনা এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করার মার্কিন দাবি সত্ত্বেও, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর বেসামরিক মানুষ হত্যার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে—যা কখনও কখনও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে।

১৯৯৯ সালে যুগোস্লাভিয়ায় ন্যাটোর বোমা হামলার সময়, বেলগ্রেডে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের একটি অংশকে যুগোস্লাভ সামরিক স্থাপনা হিসেবে ভুল শনাক্ত করে সেখানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

সেই হামলায় তিনজন চীনা সাংবাদিক নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।

ওয়াশিংটন পরে জানিয়েছিল যে, গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা পুরনো ম্যাপের ওপর নির্ভর করার কারণে এই বোমা হামলা হয়েছে, যা ভুলবশত দূতাবাস প্রাঙ্গণকে একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

ঘটনাটি চীনের সঙ্গে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকট তৈরি করেছিল, যার ফলে বেইজিং এবং অন্যান্য শহরে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর সামনে বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছিল।

‘১৯৯১ সালে, ডেজার্ট স্টর্ম অভিযানের সময়, যুক্তরাষ্ট্র বাগদাদের আমিরিয়াহ বাঙ্কারেও হামলা চালিয়েছিল এই বিশ্বাসে যে সেটি একটি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল (সামরিক নিয়ন্ত্রণ) কেন্দ্র,’ কানসিয়ান ব্যাখ্যা করেন।

কানসিয়ান আরও যোগ করেন, সেখানে কেবল বেসামরিক নাগরিকরাই ছিলেন এবং ৪০৩ জন নিহত হয়েছিলেন।

'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' ছিল উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি বিমান ও স্থল অভিযান, যা ১৯৯০ সালে ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেন কুয়েত দখল করার পর শুরু হয়েছিল। ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে এই জোট ইরাকের সামরিক অবকাঠামো, নেতৃত্ব নেটওয়ার্ক এবং কমান্ড সেন্টারগুলো পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশটিতে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে।

সেই ঘটনায় দুটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী বোমা বাঙ্কারটি ভেদ করে ভেতরে আঘাত হানে, যার ফলে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু ছিল। এই হামলাটি ওই যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় পরিণত হয় এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নিন্দার ঝড় তোলে।

২০২১ সালে এক সাক্ষাৎকারে ফোর-স্টার জেনারেল মেরিল ম্যাকপিক বলেন, সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভর করত।

সাংবাদিক সোফিয়া বারবারানিকে ম্যাকপিক বলেন, ‘আমাদের মাথায় কখনোই আসেনি যে এটি এমন কোনো জায়গা যেখানে বেসামরিক নাগরিকরা আশ্রয় নিতে পারে—আমরা এটিকে একটি সামরিক বাঙ্কার হিসেবেই ভেবেছিলাম, যেখানে কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সুবিধা ছিল।’ 

ম্যাকপিক উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় মার্কিন বিমান বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন।

বেলগ্রেডের ঘটনায়, সিআইএ লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার জন্য দায়ী একজন মধ্য-স্তরের গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছিল। এছাড়া ছয়জন ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপককে তিরস্কার করা হয়েছিল।

তবে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়নি। অবশ্য পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র চীন সরকারকে দূতাবাসের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ২৮ মিলিয়ন ডলার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল।

আমিরিয়াহ বাঙ্কারের ঘটনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই হামলাকে ভুল হিসেবে গণ্য করেনি এবং কোনো কর্মীকে বরখাস্ত বা শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, বাঙ্কারটি একটি বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিল, যা বেসামরিক নাগরিকদের আশ্রয়ের জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছিল।

এরও কয়েক দশক আগে, ১৯৬৮ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যা 'মাই লাই গণহত্যা' হিসেবে পরিচিতি পায়, সেখানে মার্কিন সৈন্যরা একটি গ্রামের ৩৪৭ থেকে ৫০৪ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে এবং নারীদের দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রথমে এই যুদ্ধাপরাধ ধামাচাপা দিয়েছিল, কিন্তু সাংবাদিক সেমুর হার্শ এবং রোনাল্ড রিডেনহাওয়ারের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মাই লাই-এর সেই ভয়াবহতা বিশ্বের সামনে চলে আসে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে উসকে দেয় এবং জবাবদিহিতার দাবি জোরালো করে।

যদিও এ ঘটনায় ২৬ জন সৈন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, কিন্তু কেবল একজনকে—সংশ্লিষ্ট প্লাটুনের নেতা লেফটেন্যান্ট উইলিয়াম ক্যালি জুনিয়রকে—দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে আনা হয়; শেষ পর্যন্ত তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর গৃহবন্দী হিসেবে সাজা ভোগ করেন।

মিনাবের স্কুলে বোমা হামলার তদন্ত এখনও চললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র দায় স্বীকার করলেও এর পরিণতি সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কানসিয়ান বলেন, যদি এই ভুলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করা যায়, তবেই কেবল বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তিনি আরও বলেন, ‘তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বারবার দায়িত্বরত সদস্যদের বলেছেন, 'আমি তোমাদের পাশে আছি', তাই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।