ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি ওরফে এন রবি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) কলকাতার রাজ্যপালের সরকারি কার্যালয় লোকভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুজয় পাল।শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজন। দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিদায়ী রাজ্যপাল সি. ভি আনন্দ বোসের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
শপথ নেওয়ার পর বাংলায় দেওয়া এক বার্তায় নতুন রাজ্যপাল বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের আধ্যাত্মিক, বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই রাজ্যের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ও বিনম্র মনে করছেন।
তার বক্তব্যে তিনি বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাসের কথা তুলে ধরে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অবদান স্মরণ করেন। এর মধ্যে ছিলেন- চৈতন্য, রামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম্’ যে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ‘যুদ্ধধ্বনি’ হয়ে উঠেছিল, সেই কথাও স্মরণ করেন তিনি।এছাড়াও বার্তায় রাজ্যপাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশাল মাপের কবি ও চিন্তাবিদ’ হিসাবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, শ্রীঅরবিন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শপথ গ্রহণের পর সন্ধ্যায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কালিঘাট কালি মন্দিরে গিয়ে পূজা দেন নতুন রাজ্যপাল।
১৯৫২ সালের ৩ এপ্রিল ভারতের বিহারের পাটনায় জন্ম নেওয়া এন রবি একজন সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টটিগেশন এবং ইন্টেলিজেনস ব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি নাগাল্যান্ড, মেঘালয় এবং তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল থাকাকালে নাগা শান্তি প্রক্রিয়ায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়।
এদিকে আগামী মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যপালের পরিবর্তন এবং নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে রাজ্যপাল থাকার সময় ক্ষমতাসীন দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম সরকারের সঙ্গে তার একাধিক সংঘাত সামনে এসেছিল, যা নতুন দায়িত্ব নিয়েও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়েছে।
