আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে টানা ১৪ দিন ধরে সংঘাত চলছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে অঞ্চলজুড়ে অন্তত ১২টি দেশে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
কোন কোন দেশে হামলা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ১০ মার্চ জানায়, গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানে ৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ২৭টি মার্কিন ঘাঁটি এবং তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
এ পর্যন্ত ইরান বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত নয়টি দেশে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া একটি ইরানি ড্রোন সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটির রানওয়েতে আঘাত হানে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দাবি, এসব হামলার বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে।
বিভিন্ন দেশে হতাহত
ইরান:
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েল:
ইরানের হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ১৫ জন নিহত এবং ২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। ১ মার্চ মধ্য ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হন।
যুক্তরাষ্ট্র:
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলে ইরানি হামলায় তাদের ১১ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া কুয়েতে এক সেনাসদস্য স্বাস্থ্যজনিত কারণে মারা যান। ১৩ মার্চ সেন্টকম জানায়, পশ্চিম ইরাকে একটি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয় ক্রুর মধ্যে চারজন নিহত হন।
বাহরাইন:
বাহরাইনে অন্তত দুইজন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। জুফায়ার এলাকায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরকে লক্ষ্য করে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
জর্ডান:
জর্ডান জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে ছোড়া ১১৯টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
ইরাক:
ইরাকে সংঘাত-সংক্রান্ত ঘটনায় মোট ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য, কুর্দি যোদ্ধা, নিরাপত্তারক্ষী ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।
লেবানন:
লেবাননের তথ্য মন্ত্রী পল মরকোস জানিয়েছেন, ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৬৮৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৭৭৪ জন। যুদ্ধের কারণে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ওমান:
ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় দুকম বন্দরে এক বিদেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন। এছাড়া উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলায় চারজন আহত হন এবং সোহার প্রদেশে একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
কাতার:
কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। দেশটির আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যেখানে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে। নিরাপত্তার কারণে দেশটিতে সব স্কুলে অনলাইন শিক্ষা চালু করা হয়েছে।
সৌদি আরব:
সৌদি আরবের আল খারজ অঞ্চলের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় দুইজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত:
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের নাগরিকসহ অন্তত ছয়জন নিহত এবং ১৩১ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দেশটির দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
