ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মারকেল দম্পতি ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি দেন। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ায় তারা বসবাস শুরু করেন। সেই সময় থেকে তারা রাজপরিবারের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন। তবে যুক্তরাজ্যসহ অন্য দেশে এ রাজপরিবারের দম্পতিকে নিয়ে এখনো মানুষের তুমুল আগ্রহ রয়েছে।
রাজা তৃতীয় চার্লসের স্ত্রী কুইন কনসর্ট ক্যামিলা নাকি মন্তব্য করেছিলেন, প্রিন্স হ্যারিকে তার স্ত্রী মেগান মার্কেল ভীষণভাবে প্রভাবিত করে ফেলেছেন। হ্যারিকে নিয়ে নতুন একটি জীবনীগ্রন্থে এমন দাবি করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগকে ‘বিকৃত যড়যন্ত্র’ বলেও মন্তব্য করেছেন হ্যারির মুখপাত্র। শনিবার (১৪ মার্চ) তিনি এ দাবি করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র টাইম বইটি থেকে উদ্ধৃতি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে হইচই পড়ে যায়। যে বইটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে, সেটির লেখক টম বাওয়ার। যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সদস্যদের নিয়ে টম বেশ কয়েকটি জীবনীগ্রন্থ লিখেছেন। নতুন এ বইয়ে টম বলেছেন, ২০১৮ সালের জমকালো বিয়ের পরপর হ্যারি–মেগান দম্পতি রাজপরিবারের অন্য সদস্যের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, হ্যারি ও মেগান এখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই কথা বলেন না। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় হ্যারি তার বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে কমই দেখা করেছেন।
টম তার বইতে আরও লিখেছেন, হ্যারির বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়াম এবং তার স্ত্রী কেট মিডলটন মনে করেছিলেন— মেগানের প্রভাব হ্যারির ওপর উদ্বেগজনক। তারা মেগানকে ‘সম্ভাব্য হুমকি’ হিসেবেও দেখতেন।
এদিকে টম দাবি করেছেন, কুইন কনসর্ট ক্যামিলা তার একজন বন্ধুকে বলেছিলেন— ‘হ্যারির ওপর ভীষণ রকমের প্রভাব ফেলছেন মেগান। হ্যারির 'ব্রেনওয়াশ' করা হয়েছে।
চাচা অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটনের সাম্প্রতিক সম্মানহানির ঘটনা প্রিন্স হ্যারিকে বিস্মিত করেছে বলেও দাবি করেন টম। যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জেরে দেশে–বিদেশে বিতর্ক দেখা দেওয়ায় অ্যান্ড্রু সব ধরনের রাজকীয় উপাধি হারিয়েছেন। অ্যান্ড্রুকে প্রাসাদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রিন্স হ্যারির ভয় ছিল, তাকেও পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেন বড়ভাই উইলিয়াম। এসব নিয়ে হ্যারি–মেগানের কোনো প্রতিক্রিয়া সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হ্যারি ও মেগানের মুখপাত্র বলেছেন, ‘টমের মন্তব্য অনেক আগেই সমালোচনার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এটা এখন এক ধরনের আসক্তিতে পরিণত হয়েছে।’
