গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি বিরল প্রজাতির বনবিড়াল (স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘মেছো বাঘ’) নিহত হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের ভেরামতলী এলাকা থেকে বন বিভাগ প্রাণীটির মরদেহ উদ্ধার করে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় সড়ক দুর্ঘটনায় বনবিড়ালটির মৃত্যু হয়। বুধবার সকালে স্থানীয়রা সড়কের পাশে প্রাণীটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বন বিভাগকে খবর দেয়। পরে বনকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বনবিড়ালটির শরীর কালো ও ধূসর পশমে আবৃত এবং বাঘের মতো ডোরাকাটা হওয়ায় স্থানীয়ভাবে একে ‘মেছো বাঘ’ বা ‘বাঘাইল্লা’ নামে ডাকা হয়। এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি বনাঞ্চলে আগুন দেওয়া ও নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আতঙ্কিত প্রাণীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসছে এবং সড়ক দুর্ঘটনা বা মানুষের আক্রমণে মারা পড়ছে। এর আগে মাওনা-ফুলবাড়িয়া সড়কে একটি অন্তঃসত্ত্বা হরিণও গাড়িচাপায় মারা যায় বলে তারা জানান।
নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, বন উজাড় ও আগুন লাগানোর কারণে বন্যপ্রাণীরা আবাস হারাচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনা বা হামলার শিকার হচ্ছে।
নদী পরিব্রাজক দল, শ্রীপুর শাখার সভাপতি সাঈদ চৌধুরী বলেন, বনের ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ, অতিরিক্ত শব্দ, আগুন দেওয়া ও গাছ কাটার ফলে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে তারা লোকালয়ে চলে এসে প্রাণ হারাচ্ছে। তিনি বনের ভেতরের সড়কে যানবাহনের গতি ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন রাস্তা নির্মাণ বন্ধের দাবি জানান।
এ বিষয়ে শ্রীপুর রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় একটি বনবিড়ালের মৃত্যু হয়েছে। বনের ভেতর দিয়ে রাস্তা থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। আমরা বনের ভেতর নতুন রাস্তা না দেওয়ার চেষ্টা করছি, তবে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।” তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা বনবিড়ালটির মরদেহ গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে ময়নাতদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
