১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় মার্কিন ট্যাঙ্কার এসকর্ট অপারেশনে যুক্ত থাকা অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে কনভয় রক্ষা করা লোহিত সাগরের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।’
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় উদ্বেগ, কারণ মুদ্রাস্ফীতিতে জর্জরিত মার্কিন ভোটাররা এখন প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম ৪ ডলারের কাছাকাছি দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রপথটি না খোলা পর্যন্ত জ্বালানির দাম পুরোপুরি কমবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ দিয়ে বেশিরভাগ জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি ইরান এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাবও বিবেচনা করছে।
হরমুজ সংকট
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লোহিত সাগরে হুথিদের হাত থেকে জাহাজ রক্ষা করতে মার্কিন মিশন শুরু হয়, যাতে পরে ইউরোপীয় দেশগুলোও যোগ দেয়। মিত্ররা শত শত ড্রোন ও মিসাইল ভূপাতিত করলেও ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হুথিরা চারটি জাহাজ ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এখন জাহাজগুলো এই পথ এড়িয়ে আফ্রিকার 'হর্ন অব আফ্রিকা' হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছে।
গবেষণা সংস্থা সিএনএ-এর নৌ বিশ্লেষক জশুয়া ট্যালিস বলেন, এটি ছিল কৌশলগত ও কার্যক্ষম দিক থেকে একটি বিজয়, কিন্তু সামগ্রিক বিচারে এটি একটি কৌশলগত ড্রয় বা হার।
হরমুজ প্রণালির চারপাশের বিপদ অঞ্চল লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালির তুলনায় পাঁচ গুণ বড়। হুথিদের মতো নয়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি পেশাদার বাহিনী যাদের নিজস্ব অস্ত্র কারখানা ও অর্থায়ন রয়েছে।
কিছু সামরিক বিশেষজ্ঞের মতে, এখানে সুরক্ষা দিতে ডজনখানেক বড় যুদ্ধজাহাজ (ডেস্ট্রয়ার), জেটস, ড্রোন ও হেলিকপ্টার প্রয়োজন হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের উপকূলরেখা জাহাজের এত কাছে যে মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে ড্রোনের ঝাঁক আক্রমণ করতে পারে। ইউরোপীয় ইনস্টিটিউট ফর স্টাডিজ অন দ্য মিডল ইস্ট অ্যান্ড নর্থ আফ্রিকার পরিচালক আদেল বাকাওয়ান বলেন, সেখানে ব্যালিস্টিক মিসাইল, ড্রোন, ভাসমান মাইন আছে এবং এমনকি আপনি যদি এগুলো ধ্বংসও করতে পারেন, তবুও সেখানে আত্মঘাতী হামলার ভয় থাকে।
অবসরপ্রাপ্ত রয়্যাল নেভি কমান্ডার টম শার্প বলেন, লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রকে সমুদ্রের মাইন বা সশস্ত্র ছোট সাবমেরিনের মুখোমুখি হতে হয়নি। যদি এই অভিযানে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারও হারায়, তবে পুরো হিসাব বদলে যাবে। একটি ডেস্ট্রয়ারে ৩০০ মানুষ থাকে।
যদিও ইরান প্রণালিতে মাইন পেতেছে কিনা তার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে হাডসন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্কের মতে, মাইন পরিষ্কার, সামরিক এসকর্ট এবং আকাশপথে টহল দেওয়ার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত যাতায়াত শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে আইআরজিসির হুমকি পুরোপুরি নির্মূল করতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।
