মুহাম্মদ সুজন মোল্লা
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামের নিখোঁজ অটোরিকশা চালক রফিক মিয়ার মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধারের পর উদ্ধার করা হলো তার মাথা। আজ (রবিবার) সকালে সদর উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকায় নদীপাড়ের একটি ভূট্টাখেত থেকে মাথাটি উদ্ধার করে বানিয়াজুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা।
ইতিমধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে জেলার ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের মোঃ হেলাল এর পুত্র মো. রিপন মিয়া (৩০), সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের আরমান হোসেন (২০) এবং একই গ্রামের সজিব হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের একটি দল।
ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের রফিক মিয়া অটোরিকশাচালক ২৪ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ২৫ মার্চ বিকেলে সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের কালীগঙ্গা নদীর পাড় থেকে মাথাবিহীন রফিকের লাশ উদ্ধার করে সদর থানার পুলিশ।
নিহত রফিক ও নির্মাণশ্রমিক রিপন বন্ধু ছিলেন। রফিককে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে বিক্রি করবেন বলে পূর্বপরিকল্পনা করেন। ২৪ মার্চ সন্ধ্যার পর গাঁজা খাওয়ার কথা বলে একটি ভাড়া করা অটোরিকশায় রফিককে পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যান রিপন এবং তাঁর সহযোগী সজিব ও আরমান। এরপর আরমান রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর রিপন দা দিয়ে রফিকের গলাকেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করেন। এ সময় আরমান রফিকের দুই হাত এবং সজিব দুই পা ধরে রাখেন। পরে হত্যাকারীরা মাথা এবং শরীর নদীতে ফেলে দেন। মাথা পানিতে ডুবে গেলেও শরীর ভেসে উঠে। এ কারণে রফিকের পেট কেটে নদীতীরে মাটিচাপা দেন। পরের দিন গত বুধবার ভোরে রফিকের অটোরিকশাটি নিয়ে রিপন ধামরাই চলে যান। ২৫ মার্চ বিকেলে নদীর তীর থেকে রফিকের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৬ মার্চ দুপুরে প্রযুক্তির সহযোগিতায় ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের একটি দল। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালামপুরে একটি গ্যারেজ থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।