কুমারখালীতে সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ ও ঘুষ বাণিজ্যে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ঃ মীর রকিবুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, যেখানে সড়ক সংস্কার হচ্ছে, সেখানেই অনিয়ম যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাগ-বাটোয়ারা ও দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের কাজ মুখ থুবড়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অধীনে উপজেলার পান্টি, নন্দলালপুর ও মহেন্দ্রপুর এলাকায় প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তবে পান্টি ও নন্দলালপুর এলাকার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, ধুলোবালির উপরেই পিচ ঢেলে দায়সারা ভাবে কাজ করা হচ্ছে এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এদিকে মহেন্দ্রপুর এলাকার কাজ তুলনামূলক ভালো হলেও সেখানে ভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার মোঃ আব্দুস সামাদ খান অভিযোগ করেন, তিনি ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তার দাবি, মূল সিডিউল অনুযায়ী আড়াই ইঞ্চি এজিং করার কথা থাকলেও তাকে বাধ্য করে ৫ ইঞ্চি এজিং করানো হয়েছে, যার ফলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, কাজ শেষে বিল উত্তোলনের জন্য আবেদন করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না। নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিনে পরিদর্শন করে আবেদন করতে বললেও এখন পর্যন্ত তার বিল আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া রোলার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নিয়মে বিল থেকে রোলার ভাড়া কর্তনের কথা থাকলেও বাস্তবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। রোলার ব্যবহারের জন্য আবেদনকালে ১২ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন ৫২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে থানায় ড্রাইভার মোঃ আবু তালেব অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া বা বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি নির্দিষ্ট কারখানা থেকে ইনিব্লক ইট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্য ভাটা থেকে উন্নত মানের ইনিব্লক কিনলে তা বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাদের মতে, এভাবে অনিয়ম চলতে থাকলে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো থেকে সাধারণ মানুষ কোনো সুফল পাবে না।।