এমডি রফিকুল
মালেশিয়া
মালয়েশিয়ার শিল্পাঞ্চলের ব্যস্ততার ভেতর হঠাৎ নেমে আসে নীরব আতঙ্ক। সেলাঙ্গরের বালাকং ও শাহ আলম এলাকায় চালানো এক সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযানে ৬৫ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১৩৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা—মাত্র এক ঘণ্টার অভিযানে বদলে যায় বহু শ্রমজীবী মানুষের বাস্তবতা। অভিবাসন বিভাগ, কাস্টমস, পরিবেশ অধিদফতর ও শ্রম বিভাগসহ ১৪৫ জন কর্মকর্তার অংশগ্রহণে পরিচালিত এই অভিযানে শিল্পাঞ্চলজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযানে মোট ১৬২ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হলে, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ১৩৩ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা সর্বাধিক—৬৫ জন। এছাড়া মিয়ানমার, পাকিস্তান, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক রয়েছেন। অধিকাংশই ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী, জীবিকার সন্ধানে প্রবাসে আসা শ্রমিক।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র না থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত অবস্থান এবং অবৈধ পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে অভিযানের সময় কিছু শ্রমিকের কাছ থেকে শুল্কবিহীন মদ ও সিগারেট জব্দ করা হয়।
বর্তমানে আটক সবাইকে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য অভিবাসন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছে—অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা চাকরি দেওয়া গুরুতর অপরাধ। এদিকে ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এর সময়সীমা শেষ হতে চলেছে এপ্রিলেই। তাই যারা এখনো অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রবাসের স্বপ্ন অনেকের কাছে আলো, আবার কারও কাছে হঠাৎ আঁধার—সেলাঙ্গরের এই অভিযান যেন সেই বাস্তবতারই আরেকটি প্রতিচ্ছবি।