সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘মা ফিজিও থেরাপি সেন্টার’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার চালা বাজার এলাকার এম এম প্লাজা ভবনের নিচতলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফিজিওথেরাপি সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ‘মা ফিজিও থেরাপি সেন্টার’-এর উদ্বোধন করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল। পরে তিনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেলকুচি সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব সাইদুল আলম। সেন্টারের পরিচালক তন্ময় গোস্বামী (পিটি)-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব গাজী সাইদুর রহমান, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম (শফি), বেলকুচি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বৈদ্যনাথ রায়, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি জয়শংকর সাহা, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমৃত নারায়ণ দে এবং বেলকুচি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক এস পাল।
এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা, আঘাতজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেলকুচিতে এ ধরনের চিকিৎসাসেবা চালু হওয়ায় স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের শহরে যাওয়ার প্রয়োজন কিছুটা কমবে এবং স্বল্প খরচে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
‘
মা ফিজিও থেরাপি সেন্টার’-এর পরিচালক তন্ময় গোস্বামী (পিটি) বলেন, শুধু ওষুধের মাধ্যমে সব ধরনের শারীরিক সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। আবার কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পরও স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে ফিরে আসতে ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী, বাতব্যথা, প্যারালাইসিস, বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি এবং অটিজমে আক্রান্ত শিশুসহ বিভিন্ন রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী এখানে ফিজিওথেরাপি সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তন্ময় গোস্বামী আরও বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে সেন্টারটিতে স্বল্প খরচে বিভিন্ন ধরনের ফিজিওথেরাপি সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেও কাজ করবেন তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল বলেন, ‘তন্ময় গোস্বামীর এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। বেলকুচি এলাকায় এ ধরনের চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন ছিল। এখানে একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার চালু হওয়ায় স্থানীয় মানুষ বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
তিনি আরও বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে এ ধরনের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে স্থানীয়ভাবে সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ‘মা ফিজিও থেরাপি সেন্টার’-এর বিভিন্ন কার্যক্রম ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন। পরে প্রতিষ্ঠানটির সফলতা ও রোগীদের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
