শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে দালাল বিরোধী অভিযানে ২ নারী আটক

ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে দালাল বিরোধী অভিযানে ২ নারী আটক

ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে দালাল বিরোধী অভিযানে ২ নারী আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল সরকারি হাসপাতালের নাম শুনলেই মাথায় আসে দালাল আর হয়রানির কথা। রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের হয়রানি সরকারি হাসপাতালগুলোতে যেন অতি পরিচিত ঘটনা। আজ বুধবার ( ১৫ এপ্রিল-২০২৬ ইং) সকাল ১০ ঘটিকার সময় ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে একটি দালাল বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান চলাকালে দালালির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তানিয়া (৩০) ও স্বর্ণা (৩৫) নামের দুই নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটক তানিয়া শহরের  মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী সদস্যরা তাদের আটক করে সদর হাসপাতালের পুলিশ ডিউটি রুমে দায়িত্বরত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। অভিযানকারীরা জানান, হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করতে না করতেই শুরু হয় দালালদের উৎপাত। নানান কৌশলে মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে রোগীদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় আশপাশের কোনো নিম্নমানের প্রাইভেট হাসপাতালে। প্রায় ই দেখা যায় টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়ানোর পর ঘুষ দিয়ে পেছনের লোক আগে সাক্ষাতের সুযোগ পায় আর ঘুষ না দিলে দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষা করতে হয় চিকিৎসকের সাক্ষাতের জন্য।
‎ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার খারাপ চিত্র তুলে ধরে রোগীদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নিম্নমানের  বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে। চিকিৎসকরা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিলে সেগুলোও তারা বিভিন্ন কৌশলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে করাচ্ছে। আর এসব দালালের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হাসপাতালে কর্মরত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি, আশপাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকসহ প্রভাবশালীরা।
‎দালালরা গ্রামের দরিদ্র, অসহায়, যারা কিনা চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানে না তাদের টার্গেট করে। কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায় এবং ভর্তি করায়। ফলে সরকারি হাসপাতালের স্বল্প মূল্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় এবং অধিক অর্থ ব্যয় করে সর্বস্বান্ত হয়ে ফেরে ভুক্তভোগীরা। 
‎এদিকে হাসপাতালে মাঝে মাঝে কিছু লোক দেখানো দালাল বিরোধী অভিযান চালালেও আসল দালালরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে এমন ই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসে। একাধিকবার তালিকা প্রকাশ এবং জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বার বার উত্থাপনের পরও নির্মূল হচ্ছে না জেলা সদর হাসপাতালের দালাল চক্র। আর এই দালালচক্র নির্মূলের উদ্দেশ্যই আমাদের আজকের এই দালাল বিরোধী অভিযান। 
‎সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, জনস্বার্থে হাসপাতালের দালালচক্র নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। 

‎স্টাফ রিপোর্টারঃ শাহ আলমগীর হোসাইন