যশোরে গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু জুনায়েদের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর শুরু হয়েছে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত ডাক্তার ও একটি রাজনৈতিক পক্ষ তৎপর হয়ে উঠেছে।
শিশুটির পরিবার জানায়, ১১ এপ্রিল রাতে পেটে ব্যথা নিয়ে জুনায়েদকে শহরের কাঠালতলা এলাকার ‘নোমান মেডিকেল হল’-এ নেওয়া হয়। সেখানে আহসান হাবিব নামের এক ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ওষুধ দেন। ওষুধ সেবনের পরপরই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে দৌড়ঝাঁপ করে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে ভুল চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেতে শুরু করলে অভিযুক্ত আহসান হাবিব বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীও বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করছেন। পরিবারটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিএনপির স্থানীয় একটি অংশ ঘটনাটি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে এবং সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছে।
শিশুটির পিতা জাহিদ হাসান ইমন বলেন, “আমার সন্তানের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। এখন আবার ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন দিক থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
অভিযুক্ত আহসান হাবিব এ বিষয়ে বলেন, তিনি চিকিৎসা দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল করেননি। তবে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করছেন কি না—এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এমন ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও নিরীহ মানুষ অপচিকিৎসার শিকার হতে পারে।
কল্যান রায় জয়ন্ত