চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেছেন, অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে যারা তেল বিক্রি করবে, তারা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে চাঁদপুর শহরের মুনিরা ভবন মিলনায়তনে জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে তেল এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এমপি মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন তেল এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন। সভায় এজেন্টদের কাছ থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুদের সার্বিক তথ্য নেওয়া হয় এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
সভায় এমপি মানিক বলেন, গত বছরের একই সময়ে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ ছিল, বর্তমানে একই পরিমাণ সরবরাহ রয়েছে। তাহলে কৃত্রিম সংকট কেন তৈরি হচ্ছে—এ প্রশ্ন তুলে তিনি অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সাব-লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনোভাবেই তেল বাইরে বা খোলা বাজারে বিক্রি করা যাবে না। ইতোমধ্যে খোলা বাজারে প্রতি ব্যারেল তেল প্রায় ৩৮ হাজার টাকায় বিক্রির তথ্য প্রশাসনের কাছে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কে, কোথায়, কীভাবে তেল বিক্রি করছে—সব তথ্য আমাদের কাছে আছে।”
অধিক দামে তেল বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বেশি দামে তেল বিক্রি করবেন, তারা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে বিবেচিত হবেন।
এমপি মানিক জানান, দেশে বর্তমানে অন্তত তিন মাসের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং আগামী ছয় মাসেও কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
এজেন্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাব-এজেন্টদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করতে হবে এবং তাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণে রাখতে হবে। কেউ অবৈধভাবে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, থানা, এনএসআই ও পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ রাখতে হবে, যাতে কোনো অনিয়ম হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সবশেষে তিনি বলেন, সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তবে অনিয়ম করলে লাইসেন্স বাতিল করে নতুনদের সুযোগ দেওয়া হবে।
সভায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, তেল সরবরাহ ও বিক্রির বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছেও নিয়মিত তথ্য আসে। কারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, সে সম্পর্কেও তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তিনি সকলকে এমপি’র নির্দেশনা মেনে সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফেরদৌস আলম বাবু, ডিএম শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার গাজী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় জেলার অর্ধশতাধিক তেল এজেন্ট অংশ নেন।
বার্তা প্রেরক:
মুসাদ্দেক আল আকিব
জেলা প্রতিনিধি, চাঁদপুর।