লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধরে কহিনুর বেগম (৫৬) নামে এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাতিজি ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ এ মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০নং রায়পুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা কহিনুর বেগমের সঙ্গে প্রায় ৪২ বছর আগে মোহাম্মদ ইসমাইল আনোয়ারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান নেই। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই ইসমাইল আনোয়ার কহিনুর বেগমের ওপর নির্যাতন বাড়িয়ে দেন এবং বিভিন্ন সময়ে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে ইসমাইল আনোয়ার, তার দ্বিতীয় স্ত্রী সুমা আক্তার, শ্বশুর ছায়েদুল আলীসহ আরও কয়েকজন কহিনুর বেগমের ঘরে প্রবেশ করে যৌতুকের দাবিতে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তার হাত-পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ১ লাখ টাকা এবং প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার (আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা) লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্বজনরা আহত অবস্থায় কহিনুর বেগমকে প্রথমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাদী ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি বলেন, “আমার ফুফুকে দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হচ্ছিল। ঘটনার দিন পরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, যৌতুকের দাবি পূরণ না করলে ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহীন মিয়া বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
মাহবুব হোসেন রনি, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
