ভোলার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই খাল। যেখান দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ ছোট-বড় নৌ-যান জেলা শহরের প্রধান বাজারগুলোতে পণ্য সরবরাহ করে। কিন্তু সস্প্রতি এই নৌ-পথটি অশান্ত হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, আগে যে পজিশনে ১ হাজার টাকা টোল দেওয়া হতো, বর্তমানে সেখানে জোরপূর্বক দাবি করা হচ্ছে ৩ হাজার টাকা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিশাল অংকের টাকা নিলেও দেওয়া হচ্ছে না কোনো বৈধ রশিদ।
জাহাজ শ্রমিক বলেন, আগে দিতাম ১২০০ টাকা, এহন চায় ৩০০০। টাকা না দিলে জাহাজ আটকাইয়া রাখে, আমাগো গাইল দেয়। ৩০০০ টাকা লয় কিন্তু কোনো কাগজ (রশিদ) দেয় না। মালিকরে গিয়া কী জবাব দিমু আমরা? আমরা চাই হয় এই খাল ইজারা মুক্ত করা হোক, না হয় আগের নির্ধারিত হারে টোল নেওয়া হোক।
নিয়ম অনুযায়ী খালের বিভিন্ন পয়েন্টে টোল চার্ট থাকার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ইজারা শর্ত ভঙ্গ করে মেসার্স জননী স্যানেটারি নামের প্রতিষ্ঠানটি ১৪ এপ্রিল থেকে এই অরাজকতা শুরু করেছে বলে দাবি শ্রমিক ও মালিকদের।
তবে অভিযোগ সত্য হলে টেন্ডার প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মেসার্স জননী স্যানিটারি-এর স্বত্বাধিকারী আবুল হাসনাত। তিনি জানান, তার লাইসেন্স ব্যবহার করে আত্মীয়রা টেন্ডার নিয়েছেন, তবে কোনো অনিয়ম হয়নি। অনিয়ম প্রমাণ হলে স্বেচ্ছায় টেন্ডার বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে ভোলা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, পৌরসভার একটি নির্ধারিত টোল চার্ট আছে। এর বাইরে এক পয়সা বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। শ্রমিকদের মারধর বা দুর্ব্যবহার বেআইনি। আমরা আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ইজারা বাতিল করে নতুন টেন্ডার দেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর, কারণ বাজারে বাড়ছে পণ্যের দাম। ভোলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুতই বন্ধ হবে এই সিন্ডিকেট আর নৌ-পথে ফিরবে স্বস্তি।
মোঃ আজাদ, ভোলা জেলা প্রতিনিধি
