জীবন আর জীবিকার কঠিন সংগ্রামে জর্জরিত এক অসহায় পরিবার। প্রতিদিনই যেন বেঁচে থাকার জন্য এক অবিরাম লড়াই। যেখানে সুখ-স্বপ্নের কোনো স্থান নেই, সেখানে টিকে থাকাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।স্ত্রী মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত, আর তিনটি সন্তান জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। পৃথিবীর কোলাহল তাদের কানে পৌঁছায় না, মুখ ফুটে বলতে পারে না মনের কথা। নিঃশব্দ এই তিন জীবনের একমাত্র ভরসা এখন পঞ্চাশোর্ধ দিনমজুর বাবা আব্দুল হাই। তিন বেলা ভাত জোগাড় করাই যেখানে সংগ্রামের বিষয়, সেখানে চিকিৎসার খরচ বহন করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এই পরিবারের প্রতিটি দিনের গল্প যেন সমাজের কাছে এক নীরব আর্তি।
দিনমজুর আব্দুল হাই নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। একসময় দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন, কিন্তু জীবনের একের পর এক বিপর্যয় তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে। প্রায় ১৩ বছর ধরে অসুস্থ স্ত্রী হাজেরা বেগম। দুই বছর আগে তার শরীরে ধরা পড়ে মরণব্যাধি ক্যান্সার। অন্যদিকে, ৫ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে তিন ছেলে জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। এর মধ্যে দুজন আবার সড়ক দুর্ঘটনায় হাত-পা ভেঙে এখন ঘরে পড়ে আছে।
আব্দুল হাই জানান, তিনি আগে সাগরে জেলে কাজ করতেন। কিন্তু এখন স্ত্রী-সন্তানের চিকিৎসার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে কাজ করতে পারে না। চোখেও ঠিকমতো দেখে না। ওষুধ আনলে ভাত জোটে না, ভাত জুটলে চিকিৎসা বন্ধ থাকে। অনেকেই সাহায্য করেছেন, কিন্তু এখন আর কোনো উপায় নেই। তাই তিনি সকলের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।
স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে। টাকার অভাবে অপারেশন করতে পারছি না। স্বামীও অসুস্থ। প্রতিবন্ধী ছেলেরা হাত-পা ভেঙে ঘরে পড়ে আছে। এখন আমরা একদম অসহায়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল হাই পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। এলাকাবাসী মাঝে মাঝে সহযোগিতা করলেও তা এই বিশাল চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় অতি সামান্য। এই পরিবারটির জন্য এখন দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন, যাতে স্ত্রী হাজেরা বেগমের অপারেশন করা যায় এবং বাকপ্রতিবন্ধী তিন সন্তান নিরাপদ ভবিষ্যৎ পেতে পারে।
সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটু সহযোগিতা হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে এক অসহায় পরিবারকে। হয়তো আবার হাসবে তিনটি বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মুখ।
