প্রথম দেখায় ভবনটি দেখে মনে হতে পারে এটি বহুদিনের পরিত্যক্ত কোনো স্থাপনা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিলবয়রা গয়েশীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই প্রতিদিন চলছে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই শ্রেণিকক্ষে বসতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৮ সালে জাতীয়করণ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বিদ্যালয়ের পুরোনো টিনশেড ভবনটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ভবনের বিভিন্ন স্থানে টিন খুলে গেছে, কোথাও ছেঁড়া টিন ঝুলে রয়েছে। দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, খসে পড়ছে পলেস্তারা। বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে এতে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও আসবাবপত্র।
শিক্ষার্থীরা জানায়, মেঘ জমলেই তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় ক্লাস বন্ধ করে দিতে হয় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে গরমের দিনে শ্রেণিকক্ষে টিকে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস নিতে হয়। কখন কোনো অংশ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে—এই শঙ্কা সবসময় কাজ করে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ বা সংস্কার জরুরি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টির অবস্থা নাজুক হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা বলছেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানায়, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন ভবনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাধ্য হয়েই পুরোনো ভবনে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, বিলবয়রা গয়েশীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ—বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।
আমরা ইতিমধ্যে খোঁজখবর নিয়েছি। শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের আওতায় বিদ্যালয়টিতে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। একতলার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ে এখনো কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ক্লাস চলছে। শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি যেন না হয়, সে জন্য আগামী অর্থবছরে জরুরি ভিত্তিতে শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
নাজমুল হক
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
