কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাস থেকে জিরা লুটের ঘটনায় ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ৪২০ কেজি জিরার সম্পূর্ণ চালান উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালিয়ে দেবিদ্বার থানা পুলিশ তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন দেবিদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে মো. নাজমুল হাসান (২৮), রুহুল আমীনের ছেলে মো. মাসুক ওরফে মনা (২৬) এবং খলিলপুর গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের ছেলে মো. জুয়েল (৩০)।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৮ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার পৌরসভার পান্নারপুল এলাকার সিএনজি স্ট্যান্ডে ঘটনাটি ঘটে। সিলেট থেকে নোয়াখালীগামী “লাল সবুজ” পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সেখানে পৌঁছালে ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বাসটির গতিরোধ করে।
এ সময় সাদা পোশাকে থাকা চক্রের সদস্যরা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে ভুয়া পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে। তারা বাসে মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশির নামে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে বাসে থাকা ৩০ কেজি ওজনের ১৪টি জিরার বস্তা জব্দের কথা বলে নিয়ে যায়। বাধা দিলে বাসের স্টাফ ও কয়েকজন যাত্রীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।
এ ঘটনায় লুট হওয়া জিরার মালিক নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার মুছাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুল হাসান দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং আটক তিনজনের দেওয়া তথ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভোলাচং বাজারে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দোকান থেকে ১৪ বস্তা জিরা উদ্ধার করে।
ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান জানান, লুট হওয়া জিরার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় আটক তিনজনসহ অজ্ঞাত আরও ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিলেট আম্বরখানা এলাকার “সিলেট বাজার” এর মালিক মো. জাকির হোসেন বলেন, পরিবহনের মাধ্যমে পাঠানো ১৪ বস্তা জিরার মোট ওজন ছিল ৪২০ কেজি। পুরো চালান উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. ঈমাম হোসেন বলেন, আটক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে ডাকাতদের আটক এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
জিরা লুটের ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
