আজ (১৮ মে, ২০২৬) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে হঠাৎ করেই রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ সারাদেশের সব দূরপাল্লা এবং আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হুট করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কাউন্টারগুলোতে এসে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মূল কাহিনী বা কারণ কী?
এই অচলাবস্থার পেছনে রয়েছে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। ঘটনার প্রেক্ষাপট নিচে দেওয়া হলো:
কেন্দ্রীয়ভাবে নতুন কমিটি ঘোষণা: গতকাল রবিবার (১৭ মে) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয়ভাবে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের একটি নতুন ২১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে। এতে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি এবং মোমিনুল ইসলাম মোমিনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
শ্রমিকদের একাংশের আপত্তি: সাধারণ শ্রমিক ও নেতাদের একাংশ এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, সাধারণ শ্রমিকদের মতামত না নিয়ে এবং কোনো রকম নির্বাচন ছাড়াই ঢাকার নেতারা নিজেদের পছন্দের লোকদের পদ দিয়ে এই কমিটি তৈরি করেছেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দাবি: আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি হচ্ছে, এই অবৈধ পকেট কমিটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তার বদলে ৩ মাস মেয়াদী একটি নিরপেক্ষ আহ্বায়ক (এডহক) কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে হবে। নির্বাচন না দেওয়া পর্যন্ত তারা বাস চলতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বর্তমান অবস্থা:
হঠাৎ বাস বন্ধ হওয়ায় টিকিটের কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে এবং টার্মিনালগুলোতে শত শত যাত্রী আটকে আছেন। অনেকে নিরুপায় হয়ে ট্রেনের খোঁজ নিচ্ছেন বা ছোট ছোট বিকল্প যানবাহনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাস টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিক নেতাদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
রাজশাহী জেলা
মো: মুরাদ হোসেন
