রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস মালয়ালম’-এর সাবেক প্রতিযোগী, অভিনেত্রী ও সঞ্চালক পার্ল মানি ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন নিয়ে পোস্ট করে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন। বিতর্কিত বক্তব্যের পর ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউবে তার অনুসারীর (ফলোয়ার) সংখ্যা হু-হু করে কমতে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজের পোস্টের কমেন্ট সেকশন বন্ধ করলেও ক্ষোভ কমেনি নেটিজেনদের। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেবল ইনস্টাগ্রামেই মাত্র দুই দিনে তিন লাখের বেশি অনুসারী হারিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
গত ২৪ জুলাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তা শেয়ার করেন পার্ল মানি।
আন্দোলনের দৃশ্যকে ‘হৃদয়বিদারক’ উল্লেখ করে তিনি ওই পোস্টে লেখেন, ‘আমার একটাই প্রার্থনা—কেউ যেন আঘাত না পান, সবাই নিরাপদে থাকুন। জীবন বিপন্ন হলে ঘরে ফিরে যান, কোনো দাবির জন্যই জীবন দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।’
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যেন মূল আন্দোলনটি অন্য কোনো খাতে মোড় না নেয়।
তবে নিজের ওই পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমার কমেন্ট সেকশনটি আমার বাকস্বাধীনতার প্রতিফলন’—আর এই মন্তব্য করেই তিনি পোস্টের কমেন্ট সেকশন পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। অভিনেত্রীর এমন ‘কূটনৈতিক’ অবস্থান এবং কমেন্ট সেকশন বন্ধ করার বিষয়টি সাধারণ মানুষের একাংশকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
আন্দোলন সম্পর্কিত পোস্টটির কমেন্ট বক্স বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা পার্লের অন্যান্য পুরনো পোস্টে গিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। অনেক নেটিজেন তাকে ‘সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো সুবিধাভোগী’ উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম ও ত্যাগ বোঝার সক্ষমতা তার নেই।
২৪ জুলাইয়ের আগে ইনস্টাগ্রামে পার্লের অনুসারী ছিল প্রায় ২৭ লাখ (২.৭ মিলিয়ন)। বিতর্কের পর দুই দিনের ব্যবধানে তা কমে ২৪ লাখে (২.৪ মিলিয়ন) নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ইউটিউব ও ফেসবুকেও তার সাবস্ক্রাইবার ও অনুসারী কমছে।
