মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। একের পর এক বিশেষ অভিযানে শনাক্ত হচ্ছেন বৈধ কাগজপত্রবিহীন বিদেশি নাগরিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের শুরু থেকে ১৫ মে পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৭০০ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৫৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
অভিবাসন বিভাগ বলছে, দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন খাতের অবৈধ কর্মীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। নির্মাণ, রেস্টুরেন্ট, কারখানা ও সেবা খাতে কর্মরত অনেক বিদেশি বৈধ অনুমতি ছাড়াই কাজ করছিলেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের মে মাস থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এ বিশ্বের ১১২টি দেশের মোট ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৪৩ জন অভিবাসী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ৪৮১ জন বাংলাদেশি স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার জন্য আবেদন করেছেন।
ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, যেখানে ৭ হাজার ৯৩৬ জন নাগরিক নিজ দেশে ফিরেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মায়ানমার, যার সংখ্যা ৪ হাজার ৫ জন। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৭৮৫টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৬৯ হাজারের বেশি মানুষের কাগজপত্র যাচাই করা হয় এবং ১৬ হাজার ৬৮১ জন অবৈধ অভিবাসীকে শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭৩৭ জন নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।
এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই বৈধ কাগজপত্র নবায়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বৈধ প্রক্রিয়ায় অবস্থানকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনর্গঠন এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এমডি রফিকুল
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি:
