রাজশাহী মহানগরীতে ক্লুলেস অটোরিকশা চালক মামুনুর রশিদ (৫০) হত্যা ও ছিনতাই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে চালানো ধারাবাহিক অভিযানে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়।
গত ২ মে ২০২৬ তারিখ বিকেলে চালক মামুনুর রশিদ প্রতিদিনের মতো ভাড়ায় চালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি নিখোঁজ হন এবং তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ৩ মে সকালে আরএমপির দামকুড়া থানার জোতরাবোন এলাকা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ বা আঘাত করে অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. বাবুল বাদী হয়ে দামকুড়া থানায় একটি অজ্ঞাতনামা হত্যা মামলা দায়ের করেন
কোনো প্রাথমিক ক্লু না থাকায় আরএমপির ডিবি পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সমন্বিত তদন্ত শুরু করে। ১৫ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে প্রথমে রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা এলাকা থেকে মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকায় রাত পৌনে ৪টা এবং পৌনে ৫টার দিকে বাকি দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ৪ আসামি হলেন:
মো. তানভীর রানা প্রান্ত (২২) – পিতা: মো. মাসুদ রানা, হড়গ্রাম পূর্বপাড়া, রাজপাড়া।
মো. শামীম (৩৫) – পিতা: মোহাম্মদ ইনসান, লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া, রাজপাড়া।
মো. রাব্বি (২০) – পিতা: অজ্ঞাত, আলীগঞ্জ পূর্বপাড়া, রাজপাড়া।
মো. নূর আলম (২৫) – পিতা: মো. মোখলেস, ভাটাপাড়া, রাজপাড়া
গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশি রেকর্ড যাচাই করে দেখা গেছে যে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শামীমের বিরুদ্ধে এর আগেও রাজপাড়া থানায় বিভিন্ন অপরাধে ৬টি মামলা রয়েছে। অন্য আসামি রাব্বির বিরুদ্ধেও রাজপাড়া ও তানোর থানায় দুটি পৃথক মামলা চলমান রয়েছে। অর্থাৎ, তারা পেশাদার ছিনতাই ও অপরাধ চক্রের সাথে জড়িত।
মো: মুরাদ হোসেন
রাজশাহী জেলা
