বান্দরবানের লামা ও আলীকদমে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: শিশুমৃত্যু, উদ্বেগজনক পরিস্থিতি
বান্দরবান: জেলার দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা লামা ও আলীকদমে হামের (Measles) ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ও চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন এবং লামা উপজেলার গজালিয়া, ফাঁসিয়াখালী ও ফাইতং ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে হাম ও এর জটিলতায় কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শতাধিক শিশু লামা ও আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ম্রো ও মারমা সম্প্রদায়ের শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের অভাবকে এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চাপের মুখে রয়েছেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আলীকদমের কুরুকপাতা এলাকা থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ১০ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ কয়েকজন শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা
পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। দুর্গম এলাকায় অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান চলছে। একইসঙ্গে শিশুদের মধ্যে হাম প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শনাক্ত করে টিকা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়ায়। প্রধান লক্ষণগুলো হলো: জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতায় শিশুর মৃত্যু ঘটতে পারে।
চিকিৎসকরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোনো শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। সব শিশুকে নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আনার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যোগাযোগ
চিকিৎসা সহায়তা, টিকা সংক্রান্ত তথ্য ও জরুরি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা যাবে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বাতায়ন অথবা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডারেও।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত আরও চিকিৎসক, ওষুধ ও টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
-1779615045.jpg)