মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পহেলা জুন থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ

পহেলা জুন থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ

পহেলা জুন থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ

বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন-এ আগামী ১ জুন থেকে টানা তিন মাস সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালী, কাঁকড়া শিকারি ও পর্যটকসহ কেউই সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবেন না।


বন বিভাগ জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময় সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে নদী-খালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে, বন্যপ্রাণীর প্রজনন ঘটে এবং বনাঞ্চলে নতুন গাছপালা জন্ম নেয়। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রতি বছরের মতো এবারও তিন মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পাস বা পারমিট ইস্যু করা হবে না। কেউ নির্দেশনা অমান্য করে বনে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পর্যটক ও বনজীবীদের নৌযান চলাচলের কারণে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হয়। নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মাছ, গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য আরও সমৃদ্ধ হবে।
তবে এ সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সুন্দরবননির্ভর হাজারো জেলে, মৌয়াল ও বনজীবী পরিবার। তাদের দাবি, টানা তিন মাস বন বন্ধ থাকলে আয়-রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনেককে ঋণ করে সংসার চালাতে হয় এবং এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিতে বাধ্য হন তারা।


বুড়িগোয়ালিনী এলাকার কাঁকড়া জেলে জামাল হোসেন বলেন, “তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশের পাস বন্ধ করে দেওয়া মানে আমাদের মতো জেলেদের পেটে লাথি মারা।”


জেলে আনিসুর রহমান বলেন, “সুন্দরবনে যেতে না পারলে উপকূলের জেলেরা আর্থিক সংকটে পড়ে যায়। তখন বাধ্য হয়ে এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে বেশি সুদে ঋণ নিয়ে সংসার চালাতে হয়।”


অন্যদিকে পর্যটননির্ভর নৌযান মালিক ও শ্রমিকরাও দীর্ঘ তিন মাস কর্মহীন সময় পার করবেন বলে জানা গেছে। নীলডুমুর এলাকার পর্যটকবাহী ট্রলারের মাঝি রিপন গাজী বলেন, “নদীর নোনা পানিতে ট্রলারের বোর্ড দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আরও বেশি ক্ষতি হয়। পাস বন্ধ হওয়ায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।”


এ পরিস্থিতিতে কর্মহীন বনজীবীরা সরকারের কাছে খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।


বন বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় সুন্দরবন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ সময়ের মধ্যে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

আবু জাফর

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: