শনিবার, আগস্ট ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিথর বাবার পাশে দাঁড়িয়ে সন্তানের নীরব অপেক্ষা

নিথর বাবার পাশে দাঁড়িয়ে সন্তানের নীরব অপেক্ষা

নিথর বাবার পাশে দাঁড়িয়ে সন্তানের নীরব অপেক্ষা

হাসপাতালের সাদা বিছানায় নিথর হয়ে শুয়ে আছেন বাবা। মুখে অক্সিজেন মাস্ক, শরীরজুড়ে চিকিৎসার নানা যন্ত্রপাতি। পাশে দাঁড়িয়ে ছোট্ট শিশুটি অপলক চোখে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে। হয়তো সে অপেক্ষা করছে—একটু পর বাবা চোখ খুলবেন, তাকে কোলে তুলে নেবেন, মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর কখনো শেষ হবে না।

শিশুটি জানে না, জীবনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে তার বাবা অনেক দূরে চলে গেছেন। এমন এক দেশে, যেখান থেকে কেউ আর ফিরে আসে না। বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা সেই অবুঝ চোখ দুটো হয়তো এখনো খুঁজছে পরিচিত হাসি, পরিচিত ডাক। কিন্তু হাসপাতালের সেই নীরব কক্ষ যেন বারবার বলে দিচ্ছে—বাবা আর কোনোদিন ফিরবেন না।


লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সাইচা গ্রামের কাজির দিঘিরপাড় এলাকার দিনমজুর রাজু আহম্মেদ (৩২) তালগাছ থেকে পড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন এক ছেলে, এক মেয়ে এবং পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে।

স্বজনদের ভাষ্য, সংসারের হাল ধরতেই প্রতিদিন ভোরে ঘর থেকে বের হতেন রাজু। দিনমজুরির আয়ে কোনো রকমে চলত পাঁচ সদস্যের পরিবার। সামনে নতুন সন্তানের আগমনের অপেক্ষা ছিল। সংসার নিয়ে ছিল নানা স্বপ্ন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল।

স্থানীয়রা জানান, রোববার (৩১ মে) বিকেল ৫টার দিকে শখের বশে একটি তালগাছে ওঠেন রাজু। গাছের বেশ ওপরে ওঠার পর হঠাৎ পা ফসকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। তার চিৎকার শুনে ছুটে আসেন আশপাশের লোকজন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। রাতেই হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি।
রাজুর মৃত্যুর পর তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। উঠানজুড়ে স্বজনদের আহাজারি। স্ত্রী বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। ছোট্ট সন্তানগুলো বুঝতে পারছে না, কেন সবাই কাঁদছে। কেন বাবা আর তাদের ডেকে নিচ্ছেন না। কেন এত মানুষের ভিড় তাদের বাড়িতে।

সোমবার (১ জুন) দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার সময় অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু। এলাকাবাসীর ভাষ্য, হাসিখুশি ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন রাজু। কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না।

রাজুর অকাল মৃত্যুতে শুধু একটি প্রাণই ঝরে যায়নি, অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ। দুই শিশু সন্তান, গর্ভে থাকা অনাগত সন্তান এবং স্বামীহারা এক নারীর জীবনে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া জানান, গাছ থেকে পড়ে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

মাহবুব হোসেন রনি, রায়পুর(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি