সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় দলের ফুটবলার রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

জাতীয় দলের ফুটবলার রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

জাতীয় দলের ফুটবলার রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

জাতীয় ফুটবল দলের ডিফেন্ডার রহমত মিয়া-এর বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন, হত্যা চেষ্টাসহ যৌতুক দাবির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ৫ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সন্তানকে দেখার কথা বলে সাদিয়া ইসলামকে ডেকে নেওয়ার পর তাঁদের কন্যাসন্তানকে জোরপূর্বক নিজের কাছে রেখে দেন রহমত মিয়া। পরে সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে সাদিয়া তাঁর মা ও স্বজনদের নিয়ে রহমতের বাড়িতে গেলে তাঁদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়।
 

ভুক্তভোগী সাদিয়া ইসলাম অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে রহমত মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় এবং তাঁদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তবে সন্তান জন্মের আগেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়। তাঁর দাবি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রহমত এক ভারতীয় নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ২০২৫ সালে তাঁকে না জানিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়।
 

সাদিয়া বলেন, “শুক্রবার মেয়েকে আনতে গেলে রহমত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ফটক বন্ধ করে আমাকে, আমার মা, খালা, মামী এবং ইউপি সদস্য ইরানি বেগমকে মারধর করে। রহমত আমাকে লাঠি ও বুট দিয়ে আঘাত করে, দেয়ালে মাথা ঠুকে দেয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। পরে আহত সাদিয়া ইসলাম ও তাঁর মা আফরোজা বেগমকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু আহসান জানান, নির্যাতনের অভিযোগে দুই নারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, “সাদিয়া ইসলামের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক জটিল ছিল। তিনি তীব্র আতঙ্কগ্রস্ত ছিলেন এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাঁর আঘাতের মাত্রা নিরূপণে মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।”
 

অভিযোগ অস্বীকার করে রহমত মিয়া বলেন, “আমার স্ত্রী ও শাশুড়ি আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে আমাদের বাড়িতে আসে। এ সময় হাতাহাতির ঘটনায় আমার মাও আহত হন।” তবে তিনি এক ভারতীয় নারীকে বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। এটি মূলত প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধ। তবে ভুক্তভোগী পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। 

মো: সাজ্জাদ হোসেন, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি