সরকারি হওয়ার পরও বেসরকারি কলেজের মতো অতিরিক্ত সেশন ফি ও বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পাবনার সুজানগর উপজেলার দুলাই ডা. জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফি কমানো এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ফি নির্ধারণের দাবিতে রোববার সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজটি সরকারি হওয়ার ঘোষণা এলেও এখনও তাদের কাছ থেকে বেসরকারি আমলের মতো উচ্চ হারে সেশন ফি, উন্নয়ন ফি, ল্যাব ফি ও অন্যান্য খাতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। একাদশ, দ্বাদশ, স্নাতক (পাস) ও সম্মান শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এসব ফি আদায়ের কারণে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে আদায়কৃত অর্থের বিপরীতে বৈধ রসিদ দেওয়া হয় না। এছাড়া নির্ধারিত ফি পরিশোধ না করলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
সকাল থেকেই শতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হন। পরে তারা কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। অবরোধের কারণে কলেজের ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “কলেজ যখন সরকারি হয়েছে, তখন আমরা কেন বেসরকারি হারে ফি দেব? আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফি নির্ধারণের লিখিত ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ জানান, সরকারি করণের প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রেখে কলেজের অভ্যন্তরীণ ব্যয় নির্বাহের জন্য কিছু ফি ধার্য করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “সরকারি নিয়মের বাইরে কোনো অতিরিক্ত ফি আদায়ের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ফি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
এস এন জামান হাশেমী সুজানগর উপজেলা প্রতিনিধি
