উত্তর কোরিয়া ৫,০০০ টনের ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ কমিশন করেছে, যা দেশটির নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতার প্রতীক বলে দাবি করেছেন নেতা কিম জং উন। বুধবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA) এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর নগরী নামপোতে অনুষ্ঠিত এক কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম জং উন বলেন, ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের এই যুদ্ধজাহাজ প্রমাণ করে যে নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কর্মসূচি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।
অনুষ্ঠান শেষে ‘চোয়ে হিয়ন’ আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হয়। জাহাজটি দেশের পশ্চিম উপকূল রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমবার উন্মোচনের পর থেকেই কিম জং উন এই ডেস্ট্রয়ারকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপথে দূরপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। KCNA-এর দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধজাহাজটিতে বিমান প্রতিরক্ষা ও জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্রের পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজিত রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের ধারণা, রাশিয়ার সহায়তায় জাহাজটি নির্মিত হয়েছে। তবে কিছু সামরিক বিশ্লেষক মনে করেন, এটি এখনো পুরোপুরি সক্রিয় অভিযানের জন্য প্রস্তুত নয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ‘চোয়ে হিয়ন’-এ একাধিক পরীক্ষা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন বলে দাবি করা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণও রয়েছে।
কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম জং উন বলেন, “আমাদের নৌবাহিনী আর শুধু উপকূল রক্ষার বাহিনী নয়। এটি এখন কৌশলগত সক্ষমতাসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পরিণত হচ্ছে, কারণ নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কর্মসূচি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের পাশাপাশি কিম জং উন নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণ প্রকল্পও চলছে। এছাড়া পানির নিচ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কিম জং উন বারবার পশ্চিম সাগরের ‘নর্দার্ন লিমিট লাইন’ (NLL) স্বীকার না করার কথা বলেছেন। অতীতে এই সমুদ্রসীমা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিক প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে উত্তর কোরিয়া একই শ্রেণির দ্বিতীয় ডেস্ট্রয়ার ‘কাং কন’ উন্মোচন করলেও উদ্বোধনের সময় দুর্ঘটনায় সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মেরামতের পর পুনরায় পানিতে নামানো হলেও এর কার্যক্ষমতা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।
কিম জং উন জানিয়েছেন, ‘কাং কন’ও শিগগিরই নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া ১০,০০০ টনের আরও বড় একটি ডেস্ট্রয়ার নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কিম জং উন তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণের গতি বাড়িয়েছেন এবং রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করেছেন।
