বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ বাংলা গানের এক কিংবদন্তি কণ্ঠ, সুরের জাদুকর প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন

আজ বাংলা গানের এক কিংবদন্তি কণ্ঠ, সুরের জাদুকর প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন

আজ বাংলা গানের এক কিংবদন্তি কণ্ঠ, সুরের জাদুকর প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন

বাংলা গানের এক কিংবদন্তি কণ্ঠ, সুরের জাদুকর ও দেশপ্রেমিক শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়— জন্মবার্ষিকীতে জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
১৯৪২ সালের ২৫ জুন তৎকালীন বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা প্রভাতচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন সরকারি স্কুল শিক্ষক এবং মা বাণী মুখোপাধ্যায় গৃহিণী। দেশবিভাগের পর পরিবারসহ চলে আসেন পশ্চিমবঙ্গে; হুগলি জেলার চুচুড়াতেই কেটেছে তাঁর শৈশব।


মাত্র ১২ বছর বয়সে কবি মঙ্গলচরণ চট্টোপাধ্যায়-এর ‘আমি ধান কাটার গান গাই’ কবিতায় প্রথম সুরারোপ করেন। সেখান থেকেই শুরু তাঁর সুরের পথচলা। নিজের লেখা গান, কবিতা ও ছড়ায় সুর দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন এক স্বতন্ত্র সংগীতভুবন। বাজনাহীন অভাবের দিনগুলোই তাঁকে শিখিয়েছে কণ্ঠকে অস্ত্র বানাতে— সেই নিরাভরণ গায়কীতেই তিনি হয়ে উঠেছেন অনন্য।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ— দুই বাংলার মানুষের কাছে তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় গান নিঃসন্দেহে আমি বাংলায় গান গাই। পাশাপাশি ডিঙা ভাসাও সাগরে কিংবা ‘লং মার্চ’— কেবল গান নয়, একেকটি সময়ের দলিল, প্রতিবাদের উচ্চারণ, শেকড়ের ডাক।


তিনি শুধু গায়ক নন— গীতিকার, সুরকার, মননশীল ভাবুক। এক সময়ের নকশাল আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক এবং ইউনাইটেড ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন প্রধান ব্যবস্থাপক— জীবনের নানা পর্বে থেকেও গানকেই করেছেন সমাজ বদলের হাতিয়ার।

 

চলচ্চিত্রেও তাঁর কণ্ঠ ধ্বনিত হয়েছে— বিশেষ করে গোঁসাই বাগানের ভূত-এ নেপথ্য কণ্ঠ দিয়ে। তবে তাঁর প্রকৃত অবস্থান ছিল মানুষের হৃদয়ের গভীরে।
একবার তিনি বলেছিলেন—
“সৃষ্টির মুহূর্তে শিল্পীকে একা হতে হয়। তারপর সেই সৃষ্টিকে যদি মানুষের সাথে মিলিয়ে দেওয়া যায়, কেবলমাত্র তাহলেই সেই একাকিত্বের সার্থকতা। সেই একক সাধনা তখন সকলের হয়ে ওঠে।”
এই দর্শনই তাঁকে করে তুলেছে সত্যিকারের শিল্পী।
'জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে'— এই চিরন্তন সত্য মেনে ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি পাড়ি দিয়েছেন না ফেরার দেশে। কিন্তু তাঁর কণ্ঠ, তাঁর সুর, তাঁর ভাষা— আজও বেঁচে আছে বাংলার মাটিতে, মানুষের কণ্ঠে, সংগ্রামের চেতনায়।
জন্মদিবসে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি, প্রতুলদা।
আপনি নেই, কিন্তু আপনার গান আমাদের শিরায় শিরায় বয়ে চলে।